ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর শাহ আলম নামে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ওই শিক্ষক উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাকে মারধর করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। তারা বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের শান্ত করে বিকেল ৪টার দিকে শাহ আলমকে আটক করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর হাতে লিখে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে যেতে বলেন। এরপর ছাত্রী ওয়াশরুমে গেলে শিক্ষক তার সঙ্গে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেন। পরে ওই ছাত্রী কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয়ে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে মারধর ও ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়।
শিশুছাত্রীর হাতে ‘ওয়াশরুমে আসো’ লিখে দিলেন শিক্ষক, অতঃপর…
বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়ার আলী জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে প্রায়ই টাকা দিতেন। তবে সোমবারের ঘটনার বিষয়ে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষককে না জানিয়ে বাড়ি চলে যায়। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয়ে এলে স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে যান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বিষয়টি জানান।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, স্থানীয়দের অবরোধ থেকে শিক্ষক শাহ আলমকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে এজাহার দিয়েছেন। এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে বুধবার (১৯ আগস্ট) আদালতে পাঠানো হবে।




