জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) উদ্যোগে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জবির মেডিকেল সেন্টার পুনর্নিমাণ ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই চিকিৎসাকেন্দ্রকে ‘নাপা সেন্টার’ বলে উপহাস করতেন, কারণ যেকোনো শারীরিক সমস্যায় সেখানে গেলে চিকিৎসকরা কেবল নাপা ট্যাবলেট দিয়েই দায়িত্ব সারতেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল জয়ী হওয়ার পর তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজ এই নতুন যুগের সূচনা হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আধুনিক এই মেডিকেল সেন্টারের জন্য ১টি এম্বুল্যান্স এবং ১৩টি অত্যাধুনিক মেডিকেল সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা ৪০টিরও অধিক মেডিকেল টেস্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করাতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন।
উদ্বোধন শেষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও চিকিৎসাসেবার বেহাল দশা দূর করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আজকের এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ‘নাপা সেন্টার’ হিসেবে পরিচিত জবি মেডিকেল সেন্টার একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপ নিলো।”
জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষান্ত হইনি, আজ তা বাস্তবায়ন করে দেখালাম। এখানে প্রদত্ত ১৩টি সরঞ্জামের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা এখন থেকে ৪০টিরও বেশি পরীক্ষা একদম বিনামূল্যে করতে পারবেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয়।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। জকসুর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় এমন কল্যাণমুখী কাজে পাশে থাকবে।”
মেডিকেল সেন্টারটির আধুনিকায়ন নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, “আগে সামান্য মাথা ব্যথা বা জ্বর নিয়ে মেডিকেলে গেলে শুধু নাপা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যেত না। কিন্তু জকসুর উদ্যোগে আজ যেভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও ল্যাব টেস্টের ব্যবস্থা করা হলো, তাতে আমাদের চিকিৎসাসেবার জন্য আর বাইরে যাওয়ার দুশ্চিন্তা করতে হবে না।




