সাম্প্রতিক
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদনদীর পানি, আবারো বন্যা আতঙ্কে সুনামগঞ্জবাসী নওগাঁর পত্নীতলায় রাকাবের উদ্যোগে ‘প্রকাশ্যে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ, ৩৩ লক্ষাধিক টাকার ঋণের চেক হস্তান্তর টুঙ্গিপাড়ায় ঋণের চাপে প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যা, ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার আশাশুনিতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ‎ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ববি প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’, ২২-২৩ জুন থাকবে কড়া নজরদারি শিবির নেতাকে হত্যার ঘটনায় যুবদল নেতার বাড়িতে আগুন, আটক ১ অভিযানে পুলিশ পাঠিয়ে নিজ বাসভবনে মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওসির বৈঠক! সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন চব্বিশের গণহত্যার ৭ মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড: সংসদে আইনমন্ত্রী হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় মোহাম্মদ বাবুল

টুঙ্গিপাড়ায় ঋণের চাপে প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যা, ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার

সোমবার,২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩০ নম্বর পাটগাতি মুন্সিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎকান্তি রায় (৫৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) ভোরে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাড়িয়ারকুল গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিদ্যুৎকান্তি রায় দাড়িয়ারকুল গ্রামের মৃত গঙ্গাপ্রসাদ রায়ের তৃতীয় সন্তান। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন সৎ, আদর্শবান ও নীতিবান শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরে স্থানীয়রা টুঙ্গিপাড়া থানায় খবর দিলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুসলিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এসআই মুসলিম উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে বিদ্যুৎকান্তি রায় বিভিন্ন ব্যাংক ও স্থানীয় উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, ঋণের চাপে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে বিদ্যুৎকান্তি রায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী, শিক্ষক সমাজ এবং তার সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সজ্জন ব্যক্তি এবং শিক্ষাবান্ধব মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে আনা হবে এবং নিজ বাড়িতেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
একজন আদর্শ শিক্ষকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে টুঙ্গিপাড়ার শিক্ষা অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :