থ্যালাসেমিয়া রোগ কিঃ-থ্যালাসেমিয়া হলো একটি বংশগত জেনেটিকরক্ত রোগ যার ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারেনা। হিমোগ্লোবিনের গঠন গত ত্রুটির জন্য এই ধরনের রক্তস্বল্পতা হয়। এই রোগের ফলে লোহিত রক্ত কণিকা তার স্বাভাবিক আয়ু (১২০ দিন) শেষ হবার আগে ভেঙ্গে যায়। ফলে রোগীর প্রচন্ড রক্ত স্বল্পতা ও জন্ডিজে ভুগে থাকেন এ সমস্যাটাই হলো থ্যালাসেমিয়া।
লক্ষণ ও চিহ্নঃ-
১.জন্ডিস রক্তস্বল্পতা থাকে.
২.প্লীহা বড় হয়ে যায়.
৩.যকৃত বড় হতে পারে.
৪.শরীরের চেহারা চন্দের ন্যায় মুখো মন্ডল ও মঙ্গোলিয়ান মত.
৫.ফ্যাকাশে চামড়া অস্বাভাবিক চঞ্চলতা.
৬.ধীর গতি বৃদ্ধি পেট ফুলে যাওয়া.
৭.সংক্রমণ প্রবণতা চোখে ‘সাদা’ হলুদ.
৮.মাথা ও মুখের অস্বাভাবিক ভাবে প্রশস্ত হাড় অস্থিমজ্জার অতিরিক্ত প্রসারণের কারণে এটি ঘটে.
রোগটির বংশবিস্তারঃ- ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিনের কারণে, থ্যালাসেমিয়া হয়।মা বাবা উভয়ই থ্যালাসেমিয়া জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। বাবা এবং মা উভয়ের থ্যালাসেমিয়া জিন থাকলে ভূমিষ্ঠ শিশু শতকরা ২৫ ভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । উত্তরাধিকার সূত্রে ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবি গঠনে এ রোগটি ছড়ায় এটি কোন ছোঁয়াচে কোন রোগ নয়।
রোগটির কারণঃ- হিমোগ্লোবি একটি আইরন বাইন্ডিং প্রোটিন যা আলফা বিটা চেইনের সমন্বয়ে গঠিত এই ত্রুটি গঠন অক্সিজেন বাধায় এবং বহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উৎপাদিত হিমোগ্লোবিনের(আর বি সি) অর্থাৎ লোহিত কণিকা স্বাভাবিক গঠনে ত্রুটি ঘটে ফলে রক্তটি নির্দিষ্ট টাইম পর্যন্ত বেঁচে থাকেনা, এটাই হল থ্যালাসেমিয়া রোগের মূল কারণ। যদি এই সমস্যা কোন বাবা-মায়ের বাহকের শরীরে থাকে, তাহলে উহাদের সন্তান রোগটি পার হয়। এবং সন্তানটি থ্যালাসেমিয়া রোগে শতকরা ২৫ ভাগ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রোগটির প্রকারভেতঃ-
রোগের তীব্রতার উপর ভিত্তি করে শ্রীনিবদ্ধ করা হয় –
ক.থ্যালাসেমিয়া মাইনর
খ.থ্যালাসেমিয়া মধ্যবর্তী
গ.থ্যালাসেমিয়া মেজর
(বিটা) মেজর থ্যালাসেমিয়াটি সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের। এটি এমন একটি অবস্থা এমন দুটি বিটা থ্যালাসেমিয়া জিন ত্রুটিপূর্ণ এর ফলে গুরুতর রক্ত স্বল্পতা শুরু হয়, জাহা ৪-৬ মাস মাস বয়সে লক্ষণ শুরু হয়।
থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয়ঃ-
*পুঙ্খানু পুঙ্খানু রোগের ইতিহাস নেওয়া.
*Hemoglobin electro process test. যা রক্ত কণিকার অস্বাভাবিকতার চিহ্ন ধরাপড়ে.
*বাহক অর্থাৎ পিতা মাতা বাহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের এ পরীক্ষা করা দরকার.
*রক্তের সিবিসি কাউন্ট করা.
থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসাঃ-
চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল
*আয়রন সিলেকশন থেরাপি নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন.
*বোন মেরু ট্রান্সফিউশন.
থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ-
বাংলাদেশে স্ক্রিনিং প্রোগাম না থাকায়, বাংলাদেশে অনেকেই জানেন না তিনি থ্যালাসেমিয়ার রোগের বাহক কিনা? বাবা-মায়ের উবের থ্যালাসেমিয়া হলে সন্তানের এরূপ হয়। তাই বিয়ের আগে অবশ্যই দুজনের থ্যালাসেমিয়ার জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। নিজেদের আত্মস্বজনের মধ্যে বিবাহ বন্ধন আবদ্ধ হওয়া না ভাই ভালো।
পরিশেষে একথা বলতেই হয় যে, এর রোগ হলে এর চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল। তাই এ রোগটি হওয়ার আগেই শতর্ক হওয়া ও প্রতিরোধ করা বেশি উত্তম।












