সাম্প্রতিক
৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, গ্রাম্য চিকিৎসককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে রোববার স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, থানায় অভিযোগ ‎ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের জবির একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কয়রায় জমি দখল ও মাছ লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন দেওয়ানগঞ্জে মাদক রাখা ও সেবনের দায়ে দুইজনের এক মাসের কারাদণ্ড! আস সুন্নাহ ইসলামী যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালী ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

রবিবার,৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীকে (৪৬) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর পুলিশ মো. মুরাদ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), তাঁর ভাই মো. বুলবুল (২৮) এবং যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা মামলাটি মিথ্যা দাবি করছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আসছেন। তাঁর দুই ছেলে। একজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অন্যজন মায়ের সঙ্গে থাকেন। মামলার পর শনিবার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এজাহারে ওই নারী দাবি করেন, ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেই বাড়িতে ওঠেন। সেদিনই রাত ৯টার দিকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে ধরেন। এরপর ওই নারীকে জড়িয়ে তাদের অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। ‎একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোন লুট করেন।

‎লুটপাটের পর আসামি সাইফুল ওই নারীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করেন। এরপর ফিরোজ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে আসামি মুরাদকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি ফিরোজ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানে চড়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

জানতে চাইলে জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ বলেন, ওই নারীর বাড়িতে এক ছেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিল। এলাকাবাসী তাঁদের ধরেছিল। তারপর সিদ্ধান্ত হয় যে ওই রাতেই তাঁকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তিনি তাঁকে মোটরসাইকেলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওই নারী নলডাঙ্গা চলে যান। এখানে লুটপাট ও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনৈতিক কাজের জন্য গ্রামছাড়া করার কারণে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা মিথ্যা নাকি সত্য, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

 

Tags:

সম্পর্কিত খবর :