এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা।
অভিযোগকারী নুরজাহান বেগম উপজেলার ১১ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের চকশ্রীকৃষ্ণ গ্রামের মৃত আলহাজ আজিম উদ্দীন মোল্যার স্ত্রী।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, বৃদ্ধার বড় ছেলে আতাউর রহমান মোল্যা ওরফে আতার (৫৪), ছোট ছেলে রেজাউল ইসলাম মোল্যা (৪৭) এবং মেয়ে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কোটগ্রামের রফিক উদ্দীনের স্ত্রী সোনাভান বেগম।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নুরজাহান বেগম ও তাঁর স্বামীর সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুল বুঝিয়ে তাঁদের সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলে আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে গরু বিক্রির ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এক ভরি স্বর্ণালংকার বিক্রির ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকাসহ মোট ১১ লাখ টাকা রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই টাকা ফেরত চাইলে আতাউর রহমান তাঁর বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়ে একপর্যায়ে তাঁর বাবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে দাবি করেন নুরজাহান বেগম। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নুরজাহান বেগমের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্ঞান ফেরার পর তাঁর স্বামী বড় ছেলের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি মৃত্যুর পর বড় ছেলে যেন তাঁর দাফন-কাফন ও জানাজায় অংশ না নেন, সে কথাও তাঁকে বলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ দিন পর তাঁর স্বামী মারা যান।
এদিকে ছোট ছেলে রেজাউল ইসলাম মোল্যা ৮ দশমিক ২৫ শতক জমি ঋণকট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা এবং মেয়ে সোনাভান বেগম ১০ শতক জমি একইভাবে দেওয়ার কথা বলে আরও ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটে পড়ে ওই টাকা ফেরত চাইলে তাঁরাও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে দাবি করেন বৃদ্ধা। এভাবে তিন সন্তানের কাছে মোট ১২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুরজাহান বেগম বলেন, ‘নিজের পেটের সন্তানদের বিশ্বাস করে আমি আর আমার স্বামী জীবনের শেষ সম্বলটুকু তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। এখন স্বামীও নেই, টাকাও নেই। এই বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ শরীর নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সন্তানদের কাছে টাকা ফেরত চেয়েও পাচ্ছি না। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বড় ছেলে আতাউর রহমান মোল্যা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আতাউর রহমান মোল্যা বলেন, ‘আমার মা প্রচুর মিথ্যা কথা বলেন। এর আগেও এক ছেলের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পর তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছেন। গত ৯ বছর ধরে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ, বাবাকে হজ করানো এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন খাতে আমি ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছি। সেই টাকাও এখনো ফেরত পাইনি। অথচ আমার বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’
আতাউর রহমান আরও বলেন, ‘এর আগেও আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছিল। বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে আমাকে নিষেধ করার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। পারিবারিক বিরোধের কারণে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




