নিখোঁজ কিশোরী সুমাইয়া উদ্ধার, মামলার এজাহারনামীয় আসামি শুভ গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে নিখোঁজের একদিন পর সুমাইয়া আক্তার ইতি (১৭) নামের এক কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি শুভ দেবনাথ (২২)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া আক্তার ইতি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত ২১ আগস্ট মতলব দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা নং-৩২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, জিআর নং-১৯৯ দায়ের করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারাসহ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০৬ ধারায় করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ কিশোরী সুমাইয়া আক্তার ইতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানা এলাকায় অবস্থান করছে। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) মো. ইমতিয়াজ কবিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানাধীন বায়েক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িখোলা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার  (২৭ আগস্ট ২০২৬) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ কিশোরী সুমাইয়া আক্তার ইতিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় একই অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় আসামি শুভ দেবনাথ (২২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শুভ দেবনাথ চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩ নম্বর খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নারায়ণপুর সাতানি কবিরাজ বাড়ির বাসিন্দা।
উদ্ধারের পর কিশোরীকে যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে মতলব দক্ষিণ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এ অভিযানের ফলে নিখোঁজ কিশোরীকে দ্রুত উদ্ধার এবং মামলার এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন