দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এসব কার্যক্রমে কেবল দর্শকের ভূমিকায় থাকে। গাছ রোপণের সময় শিক্ষক, অতিথি বা কর্মকর্তারা মূল ভূমিকা পালন করলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী দূরে বা পাশে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করে। ফলে পরিবেশ রক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা অনেক সময় সীমিতই থেকে যায়।
শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদদের মতে, বৃক্ষরোপণের মূল উদ্দেশ্য শুধু একটি চারা মাটিতে লাগানো নয়; বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলা। আর সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজ হাতে একটি করে গাছ রোপণ করে এবং সেটির পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তবে তাদের মধ্যে গাছের প্রতি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হবে। এতে বৃক্ষ সংরক্ষণের মানসিকতা যেমন গড়ে উঠবে, তেমনি পরিবেশ রক্ষার বাস্তব শিক্ষা লাভ করবে তারা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগেও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব আচরণে উদ্বুদ্ধ করা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এমনভাবে আয়োজন করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল দর্শক না থেকে নিজেরাই গাছ রোপণ, পরিচর্যা এবং সংরক্ষণের অংশীদার হতে পারে। তাদের হাসিমাখা মুখে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে প্রকৃত অর্থে সফল ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।
পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে একটি চারা গাছ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই গাছের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নয়—বরং নিজের হাতে সেটি রোপণ করা একজন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণই ভবিষ্যতের সবুজ বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী বিনিয়োগ।।











