কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা একটি বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলারের গুদামের তালা ভেঙে ১৯০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৬০ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন কৃষকেরা। বাকি সার উদ্ধারে অভিযান চলছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা বাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ-এর ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, রোপা-আমনের ভরা মৌসুমে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় সারের সংকট দেখা দিয়েছে। রোববার সার বিতরণ করা হবে—এমন খবর পেয়ে সকাল থেকেই শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক কৃষক ধলডাঙা বাজারে ডিলার পয়েন্টে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় একপর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকজন গুদামের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা সার বের করে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে গড়িমসি করেছেন। ওই ইউনিয়নের মোট ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী ডিলার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেন। এ সার বিতরণের সময় বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করি। রোববার সার বিতরণের সময় বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হন। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই স্থানীয় কৃষকেরা গুদামের তালা ভেঙে সার নিয়ে যায়।”
ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। বিপরীতে উত্তোলনের পরিমাণ কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সার না পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, পুলিশের তৎপরতায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬০ জন কৃষক ৬০ বস্তা ইউরিয়া সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, “শিলখুড়ি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিলার সর্বশেষ ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেন। সার বিতরণের সময় কিছু উশৃঙ্খল জনতা ডিলারের গুদামের তালা ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়।”
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ বলেন, “সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে রিপোর্ট দেওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।



