গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক ও ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আসতে কৃষক কার্ড কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহে কৃষক কার্ডের জন্য অ্যাপসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ জুলাই) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষক কার্ডের জন্য অ্যাপসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ক এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ এনামুল হক।এসময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষক, কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষক কার্ডের আওতায় অধিক সংখ্যক প্রান্তিক কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা, তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে নির্ভুল ও স্বচ্ছ করা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি সেবা সহজলভ্য করে তোলা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের দিকনির্দেশনা মোতাবেক সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোবায়রা বেগম সাথীর সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় আয়েজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক কৃষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য যেকোনো সরকারি সহায়তা সরাসরি এবং দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। কোনো প্রকৃত কৃষক যাতে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরি করা গেলে সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণ, বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তাই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে শতভাগ নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কৃষক কার্ড সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে কৃষকদের জন্য সরকারের সকল কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে উপ-পরিচালক মোঃ এনামুল হক বলেন, অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করায় ভুলের সম্ভাবনা কমবে এবং একটি নির্ভরযোগ্য কৃষক ডাটাবেজ গড়ে উঠবে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। কৃষকদেরও সঠিক তথ্য প্রদান করে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।
সভায় উপস্থিত কৃষকরা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কৃষি সহায়তা আরও সহজভাবে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন। তারা জানান, একটি নির্ভুল কৃষক ডাটাবেজ তৈরি হলে প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি সরকারি সুবিধা লাভ করবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে আসবে।
মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত কৃষকদের কাছ থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং সকল প্রকৃত কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষক কার্ড কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর আরও বেগবান হবে এবং সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচির সুফল দ্রুততম সময়ে প্রকৃত কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।












