লংমার্চের নামে গাড়িমার্চ করছে ১১ দলীয় জোট: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বললেন, লংমার্চের প্রকৃত ইতিহাস হলো পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা। অথচ ১১ দলীয় জোট যে কর্মসূচি পালন করছে, সেটি গাড়িমার্চ। লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্য জোট মূলত গাড়িমার্চ করছে।

চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, লংমার্চের ইতিহাস অনুযায়ী পায়ে হেঁটে এ কর্মসূচি পালন করার কথা। কিন্তু তারা যেটি করছে, সেটি গাড়িমার্চ। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই তারা নিজেদের বক্তব্য মানুষের কাছে তুলে ধরবে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। আমরা চাই, দেশে যাদের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করুক।

চুয়াডাঙ্গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা অনেকটা ‘উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে দেওয়া’র মতো। কারণ, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সব দিক অনুসন্ধান করে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। তিনি মাত্র একদিনের জন্য চুয়াডাঙ্গায় এসেছেন। তাকে যেভাবে পরিস্থিতি দেখানো হবে, তিনি সেভাবেই বুঝবেন। তবে এর বাইরে কোনো সমস্যা থাকলে তা তাকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও অপরাধমূলক সমস্যা তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, মতবিনিময় সভায় মাদক, অনলাইন জুয়া, চোরাচালান ও বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি। এর পেছনে আবহাওয়া ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখছে বলে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। এই জেলার উন্নয়ন ও সমস্যাগুলো সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চুয়াডাঙ্গা সবার, চুয়াডাঙ্গা এখন তারও।

নজরুলচর্চা ও তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান শিল্পী তুলে আনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান শিল্পীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল, মাদ্রাসা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নাটক, অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি, গান, নাচ ও অঙ্কনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিভা অন্বেষণ করা হচ্ছে। এসব আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে কাজ করছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চা। চুয়াডাঙ্গাতেও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top