রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত ফারুক শেখ হত্যা মামলার রহস্য ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন ছোট ভাই বারেক শেখকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এবং দুই ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টার মধ্যে গোয়ালন্দ পৌর এলাকার জামতলা এলাকায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ফারুক শেখ (৪৬)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. খালেক শেখ বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তিনি হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক বিরোধ, জীবদ্দশায় মাকে মারধরের অভিযোগ এবং ফারুক শেখের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বারেক শেখ হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি দৌলতদিয়া এলাকার আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন বারেক শেখ আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা দুটি ধারালো দা আলমগীর ও রুবেলের হাতে তুলে দেন। পরে তিনি অন্যত্র চলে গেলে ওই দুই ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
বারেক শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দৌলতদিয়া এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ঘটনাস্থল ও আসামিদের কাছ থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মাস্কসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



