সাম্প্রতিক
নামাজ পড়তে গিয়ে ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা প্রতিবন্ধী চালক নোয়াখালীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: কার্যালয় ও মোটরসাইকেলে আগুন সাঘাটায় কিশোরীকে উঠান থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, গ্রাম্য চিকিৎসককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে রোববার স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, থানায় অভিযোগ ‎ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের জবির একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ

নোয়াখালীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: কার্যালয় ও মোটরসাইকেলে আগুন

রবিবার,৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের জের ধরে নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিএনপি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেল চারটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে এই রণক্ষেত্র তৈরি হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অফিস ঘর এবং বিএনপি কর্মীদের একটি মোটরসাইকেলে প্রকাশ্য দিবালোকে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের বাড়ি এবং ছাত্রদল কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

এই উপদলীয় ও রাজনৈতিক সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিম এবং নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শ্রমিক দলনেতা হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি আকস্মিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ওই নিষিদ্ধ মিছিলের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে আজ শনিবার বিকেলে একই বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন এবং জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপি ও জামায়াতের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সাধারণ নেতা-কর্মীরা যে যাঁর মতো বাঁধেরহাট বাজার ত্যাগ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক এই সময়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা গোপন সূত্রে খবর পান যে, পাশের কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের নেতৃত্বে একদল আওয়ামী লীগ সমর্থক পশ্চিম শুল্লাকিয়া গ্রামের একটি দলীয় কার্যালয়ে বসে আরেকটি ঝটিকা মিছিলের গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ছাত্রদলের একদল উত্তেজিত কর্মী ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের ওই অফিস ঘরের সামনে জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

হামলার শুরুর দিকেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্রমিক দলনেতা মো. হৃদয়ের মাথা ফেটে যায় এবং সমান্তরালভাবে চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমও আহত হন। ঘটনার জেরে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা ছাত্রদল কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে একটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার বিপরীতে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মীরাও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়টি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। সন্ধ্যায় নিজেদের শীর্ষ নেতা গুরুতর আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা শহর থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও কয়েক শ ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ও সমর্থক কালাদরাপ ইউনিয়নে লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আবির অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আমার ভাইকে অফিস থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও মারধর করলে এলাকাবাসী তাদের প্রতিরোধ করে। পরে সন্ধ্যায় তারা আমাদের বাড়িতে অন্যায়ভাবে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।’ অপরদিকে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ পাল্টাপাল্টি দাবি করে বলেন, ‘আমরা শহর অভিমুখে শান্তিমতো ফেরার পথে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমাদের ওপর অতর্কিত কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে।’

ঘটনার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুধারাম মডেল থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং নোয়াখালী ক্যাম্প থেকে র‌্যাব-১১ এর সশস্ত্র সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ঘটনাস্থল থেকে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হামলা, ভাঙচুর ও দুটি পৃথক অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে আমি নিজে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিই। বর্তমানে পুরো এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেআইনিভাবে হামলা ও সরকারি আইন অমান্য করার ঘটনায় জড়িত উভয় পক্ষের অপরাধীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত আছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের আলোকে পরবর্তীতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Tags:

সম্পর্কিত খবর :