বরিশালে পূজার ছুটিতে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের দুটি চাম্বল গাছ কাটার অভিযোগ

সহকারী
প্রধান শিক্ষক কাওছার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গাছের কাঠের সন্ধান নেই; তদন্তের
দাবি

বরিশাল
প্রতিনিধি:

বরিশাল নগরীর
প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ি রোডে অবস্থিত জগদীশ সারস্বত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুটি
চাম্বল গাছ রাতের আঁধারে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান
শিক্ষক মোঃ কাওছার হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ২৩ অক্টোবর পূজার ছুটি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে
বলে জানা গেছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোনো অনুমতি ছাড়াই গাছ দুটি কাটা হয়েছে
বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহি
নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুমতি
ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে
জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর রাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের দুটি চাম্বল গাছ কেটে নেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, গাছ কাটার বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোনো অনুমোদন ছিল
না। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ কাওছার হোসেন গাছ দুটি কেটে নিয়ে গেছেন
বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কাটা গাছের কাঠ বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে
কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও অভিযোগ করা
হয়েছে, গাছ কাটার পর গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা,
এভাবে গাছ কাটার চিহ্ন আড়াল করে ঘটনার প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

নাইট
গার্ডের উপস্থিতি, পরে জানলেন প্রধান শিক্ষক

ঘটনার সময়
বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড সুধীর উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি পরে জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তিনি বিদ্যালয়
পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশালের জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার
চেয়ে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি
সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আগে থেকে অবগত ছিলেন কি না, নাইট গার্ডের
দায়িত্ব কী ছিল এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যথাযথ দায়িত্ব
পালন করেছেন কি না
—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার
হওয়া প্রয়োজন।

কাওছার
হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অনিয়মের অভিযোগ

বিদ্যালয়ের
সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ কাওছার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে
জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে
নির্ভরযোগ্য নথিপত্র ও তদন্তের ফলাফল ছাড়া সেগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা
করার সুযোগ নেই।

এদিকে, দুটি
চাম্বল গাছ কাটার অভিযোগ সম্পর্কে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ কাওছার হোসেনের
বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
ফলে গাছ কাটার কারণ, অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয় এবং কাঠ কোথায় রাখা হয়েছে
—এসব
প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

নিরপেক্ষ
তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

বিদ্যালয় একটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর গাছপালা ও অন্যান্য সম্পদ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সংরক্ষণ করা
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতা যাচাই,
কাটা গাছের কাঠ উদ্ধার বা অবস্থান শনাক্তকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আর্থিক
ক্ষতি নিরূপণ করা জরুরি।

এ ঘটনায়
বরিশালের জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের
সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা
গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top