পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সানজানা খান সিঁথি (২৪) নামের এক কলেজ ছাত্রীকে আটক করার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৩টায় সিঁথিকে তার পৌরশহরের বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ আগে পাবলিকমাঠ সংলগ্ন স্বপ্ন শপে কেনাকাটা করতে যান তিনি। বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং তার মুঠোফোন জব্দ করে।
বাউফল থানা সূত্র জানায়,বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে বাউফলের বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মানহানীকর পোষ্ট দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বাউফল সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজানা খান সিঁথিকে সন্দেহের চোখে দেখছিলেন। শুক্রবার কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সিঁথির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত সিঁথির মুঠোফোন চেক করে কোনো ফেক আইডি শনাক্ত করতে পারেনি বাউফল থানা পুলিশ। অপরদিকে থানা পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মেলেনি কোন তথ্য প্রমাণ। শনিবার বিকাল ৩টার দিকে সিঁথিকে রাজনৈতিক পুরানো একটি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সিঁথি সাংবাদিকদের বলেন,তাকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে আটক করা হয়েছে এছাড়া আর কিছুই না। কাউকে নিয়ে তিনি ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে মানহানীকর পোষ্ট করেননি। এটি সম্পূর্ণ ভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সাজানো মিথ্যা নাটক। আর তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।
শনিবার (২৯ মার্চ) সিঁথিকে যে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার দেখানোহ হয় (মামলা নং ২৪ তারিখ ২৪/৮/২০২৪) সেই মামলার বাদি হলেন বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খলিলুর রহমান। ওই মামলায় সিঁথি এজাহারভূক্ত আসামী না। অজ্ঞাতনামা আসামী হিসাবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সানজানা খান সিঁথি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন অবস্থায় তার গায়ে ডিম নিক্ষেপ করে এক যুবক থানার ভিতরে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে।
বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, সানজানা খান সিঁথিকে একটি মারামারি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সিঁথি বাউফল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামীলীগ করেন। এছাড়াও সিঁথি আইডি খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মানহানীকর মন্তব্য প্রচার করে আওয়ামীলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে আসছিলেন।