রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষে লাবলু মিয়া (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার শহীদ মিনার চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত লাবলু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জানা গেছে, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের সমর্থক এবং বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোন্নাফ (৬০), মিতু মিয়া (৪০), শফিকুল (৫৫), জয়নাল (২৫), মুন্না ও মংলু। তাদের সবাইকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


এ সময় সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদেরও হামলার শিকার হতে হয়। গ্লোবাল টেলিভিশনের রংপুর জেলা প্রতিনিধি নুরুন্নবী নুরু, মাছরাঙা টেলিভিশনের ফুয়াদ হোসেন এবং বাংলাভিশনের ক্যামেরাপার্সন সাইফুল ইসলাম মুকুলসহ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের উপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ আলী সরকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে উভয়পক্ষ। সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য ও পোস্টের প্রতিবাদ করতে গেলে মানিক চেয়ারম্যানের লোকজন আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, শহিদুল হক মানিক জানান,মোহাম্মদ আলীর লোকজন আমাদের ব্যবসায়ীদের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আজকের মানববন্ধনে সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই আমরা সমবেত হয়েছিলাম। তখনই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।বদরগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কমল লোহারি জানান, এটি মূলত ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। এর সঙ্গে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত জড়িত নয়।

ঘটনার পরপরই রংপুর জেলা বিএনপি দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুর স্বাক্ষরে পাঠানো নোটিশে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দখলদারত্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন,লাবলু মিয়া দলের কর্মী কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। যেহেতু ঘটনাটি সরাসরি রাজনৈতিক নয়, তাই দলীয়ভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে যৌথবাহিনীর ক্যাপ্টেন মেহেদী বলেন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।রংপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম জানান,সংঘর্ষে আহত লাবলু মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।সেনা ও পুলিশ বাহিনী তত্ত্বাবধানে পরিবেশ পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।