বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী ঈদ জামাতের কথা বললেই প্রথমে আসে শোলাকিয়া ঈদগাহের নাম। ১৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই ঐতিহাসিক জামাত।এবার ১৯৮ তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে ঈদগাহ মাঠ।নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে মুসল্লিদের জন্য থাকবে বিশেষ প্রবেশ পথ এবং নিরাপত্তা চেক পোস্ট। 

এবারের সবচেয়ে আকষর্নীয় প্রেক্ষাপট হচ্ছে,কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম হিসেবে মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহকে ১৫ বছর পর আবারও পুনর্বহাল করা হয়েছে। রবিবার (২ মার্চ) জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের ১৯৮তম জামাত উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

ঈদগাহ কমিটির বৈধ নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৪-২০০৯সাল পর্যন্ত শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের চাপে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. শাহ কামাল তাকে বেআইনিভাবে সরিয়ে দেন।

কিশোরগঞ্জে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি ইসলামের ইতিহাস ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রায় ১৭৫ বছর ধরে এখানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইসলামের ঐষী বাণী প্রচারের জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে আগত শোলাকিয়া "সাহেব বাড়ীর" পূর্ব পুরুষ শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ তার নিজস্ব তালুকে নরসুন্দা নদীর তীরে ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে ৭ একর জমির ওপর "শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান" প্রতিষ্ঠা করেন।তার ইমামতিতে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কিংবদন্তি মতে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ ঈদের জামাতের মোনাজাতে ভবিষ্যতে মাঠে মুসল্লীদের প্রাচুর্যতা প্রকাশে "সোয়া লাখ" কথাটি ব্যবহার করেন। অন্য একটি মতে, সেই দিনের সেই জামাতে ১,২৫,০০০ (অর্থাৎ সোয়া লাখ) লোক জমায়েত হয় এবং এর ফলে “শোলাকিয়া” নামটি চালু হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সনে স্থানীয় দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ (যিনি ঈশা খাঁর বংশধর ছিলেন), ঈদগাহের জন্য ৪.৩৫ একর জমি দান করেন। এই মাঠে ২৬৫টি কাতার আছে এবং প্রতিটি কাতারে ৫০০ শত মুসল্লী নামাজের জন্য দাঁড়াতে পারেন।

এবারও শোলাকিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ১০টা অনুষ্ঠিত হবে। 

নিরাপত্তাব্যবস্থায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি ছাড়াও সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। 

দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামের দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে।