ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দাফন প্রস্তুতি কমিটির সচিব আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইতিমধ্যেই ৩০টিরও বেশি দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ সহজ করতে এবং বিশাল এই আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য দাফন প্রক্রিয়াটি কিছুটা পিছিয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির নির্দেশনা এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে এই ৬ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
বহু শহর জুড়ে বিস্তৃত অনুষ্ঠান ও ছুটির সময়সূচি:
জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইরান সরকার বিভিন্ন প্রদেশে পর্যায়ক্রমে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইরান সরকার বিভিন্ন প্রদেশে পর্যায়ক্রমে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
- ৪ ও ৫ জুলাই: রাজধানী তেহরান প্রদেশে সরকারি ছুটি থাকবে এবং সেখানে প্রাথমিক শোকানুষ্ঠান শুরু হবে।
- ৬ জুলাই: মূল জানাজা ও শোকমিছিল উপলক্ষে পুরো ইরানে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
- ৭ জুলাই: পবিত্র কোম (Qom) শহরে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হবে এবং সেদিন সেখানে ছুটি থাকবে।
ইরাকে বিশেষ শোকযাত্রা (৮ জুলাই):
ইরান ও ইরাক সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ ৮ জুলাই ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। বাগদাদ বা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে। এরপর শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র দুই শহর নাজাফ এবং কারবালাতে বিশেষ জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
ইরান ও ইরাক সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ ৮ জুলাই ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। বাগদাদ বা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে। এরপর শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র দুই শহর নাজাফ এবং কারবালাতে বিশেষ জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
দাফন ও সমাহিতকরণ (৯ জুলাই):
৯ জুলাই খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে আনা হবে। সেদিন খোরসান রাজাভি প্রদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে শেষ জানাজা শেষে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সমাহিত করা হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই মাজারের নির্দিষ্ট স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে।
৯ জুলাই খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে আনা হবে। সেদিন খোরসান রাজাভি প্রদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে শেষ জানাজা শেষে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সমাহিত করা হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই মাজারের নির্দিষ্ট স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা, পরিবহন ও গণমাধ্যম ব্যবস্থা:
এই বিশাল জমায়েত সামাল দিতে তেহরানের মেট্রো ও সিটি বাস সার্ভিস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং মেট্রো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো ধরনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বা ব্ল্যাকআউট করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশি সাংবাদিক এই অনুষ্ঠান সরাসরি কভার করার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের এই উপস্থিতি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সংহতি ও ইরানের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।
এই বিশাল জমায়েত সামাল দিতে তেহরানের মেট্রো ও সিটি বাস সার্ভিস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং মেট্রো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো ধরনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বা ব্ল্যাকআউট করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশি সাংবাদিক এই অনুষ্ঠান সরাসরি কভার করার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের এই উপস্থিতি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সংহতি ও ইরানের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।












