সাম্প্রতিক
বোদায় ‘এক শিশু, একটি গাছ’ কর্মসূচিতে ২০ হাজার চারা বিতরণ ” তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দ ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাইমুম সিরাজ “ বেদে শিশুদের সঙ্গে কেক কেটে গ্লোবাল টিভির ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন রাণীশংকৈলে টেকসই কৃষি ও কৃষক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত ভারতে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিশাল এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে চাঁদা না দিতে পারায় আমতলীতে অসহায় পরিবারকে সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণ ও লুটপাটের অভিযোগ কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কে জিতবে জানালেন ঘানার সেই তান্ত্রিক ভারতে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিশাল এলাকা আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনে অংশ নিচ্ছে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি

ভারতে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিশাল এলাকা

ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্প তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীদের চারণভূমি ও কৃষিজমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে তারা। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন সীমান্ত এলাকায় চীনের এমন বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ও দখলদারির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসীদের একটি সংগঠন দাবি করেছে, ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে চীনা বাহিনী ইতিমধ্যে পাকাপোক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। তাদের এই দখলদারির ফলে গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং পশুচারণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
সামরিক শক্তির দিক থেকে সার্বিক সক্ষমতা, বাজেট এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়নে চীনের অবস্থান ভারতের চেয়ে এগিয়ে। তবে, স্থলযুদ্ধে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল ও ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় ভারতের নিজস্ব কিছু কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের সর্বশেষ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী তুলনামূলক অবস্থান নিচে দেওয়া হলো:
১. সামগ্রিক অবস্থান ও প্রতিরক্ষা বাজেটচীন: সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী দেশ। তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ২৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতের প্রায় ৩৬ গুণ।ভারত: বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সামরিক শক্তি। বাজেট ও প্রযুক্তির দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও, সমরাস্ত্র উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. জনবল (সৈন্য সংখ্যা)চীন: সক্রিয় সেনাসংখ্যা প্রায় ২ মিলিয়ন (২০ লাখের বেশি)।ভারত: সক্রিয় সেনাসংখ্যা প্রায় ১.৪ মিলিয়ন (১৪ লাখের বেশি)।
৩. নৌবাহিনী ও সাবমেরিনচীন: এক হাজারেরও বেশি নৌযান ও ৭৪টির বেশি সাবমেরিন নিয়ে চীনের নৌবাহিনী বিশ্বে অন্যতম বিশাল।ভারত: ভারতের নৌবহরে প্রায় ৩০০ যুদ্ধজাহাজ এবং ১৬টির মতো সাবমেরিন রয়েছে।
৪. বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষাচীন: দুই হাজারের বেশি যুদ্ধবিমানসহ চীনের বিমানবাহিনী (PLAAF) বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম।ভারত: প্রায় ৯০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের বিমানবাহিনী (IAF) বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
৫. পারমাণবিক অস্ত্রচীন: স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্যমতে, চীনের কাছে প্রায় ৬০০-এর মতো পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।ভারত: ভারতের কাছে প্রায় ১৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুদ আছে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই বছর ২২শে জুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের চীন সফরে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য খরচসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭,০৬০ কোটি টাকা।
চুক্তিটি সরাসরি ক্রয় বা জিটুজি পদ্ধতিতে চীন সরকারের সঙ্গে করা হতে পারে এবং চলতি ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে। গণমাধ্যমের হাতে আসা আনুষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানের মূল্য ২০৩৫-২০৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।
জে-১০ সিই জঙ্গিবিমান মূলত চীনের বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত জে-১০সি-এর রপ্তানি সংস্করণ। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তৈরি করা সম্ভাব্য খরচের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ফাইটার জেটের মূল্য ৬ কোটি ডলার প্রাক্কলন করা হয়েছে, এতে ২০টি বিমানের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১২০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৪,৭৬০ কোটি টাকা।
স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি কেনা এবং পরিবহন খরচ বাবদ আরও ৮২ কোটি ডলার বা ১০ হাজার ৮৬ কোটি টাকা যোগ হবে। এর সঙ্গে বীমা, ভ্যাট, এজেন্সি কমিশন, পূর্ত কাজসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে মোট ব্যয় হবে ২২০ কোটি ডলার।
উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তান এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ফ্রান্সের তৈরি ভারতের একাধিক রাফায়েল যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছিল (যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি), যার ফলে জে-১০ সিই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :