সাম্প্রতিক
মাঝ আকাশে চলন্ত বিমানে আ/ত্মহ/ত্যা করলেন আর্জেন্টিনার পাইলট, অতঃপর… স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট ‘গুম নাটকের’ সমন্বয়ক বেল্লালের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল এক শিশুর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি প্রাথমিক শিক্ষা ডুবছে তাজমুন্নাহারে ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ প্রধান প্রবেশদ্বারে জলাবদ্ধতা, হারাচ্ছে ঐতিহ্য শিবপুর হাটের জৌলুস কঁচা, সন্ধ্যা, গাবখান ও কালিগঙ্গা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ—আকাশচুম্বি দরে দিশেহারা ক্রেতা অতি বৃষ্টিতে অ্যাম্বুলেন্সের ওপর ভেঙে পড়লো গাছ, ২ ঘণ্টা বন্ধ সড়ক কটিয়াদীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্বীকৃতি পেলেন বরিশালের মাহাবুব

১১১ টি মামলা, দীর্ঘদিন কারাভোগ ও ত্যাগের ইতিহাস পেরিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে স্থান পেয়েছেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা মো. মাহাবুব সিকদার।

সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) স্থান পেয়েছেন বানারীপাড়ার সন্তান ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব শিকদার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম বানারীপাড়া উপজেলার কোনো সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) দায়িত্ব লাভ করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

মাহবুব সিকদারের এই অর্জনে বানারীপাড়াবাসী গর্বিত। তাঁর নেতৃত্বে যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গত ৪ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত ওই কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায়) স্থান পাওয়া বানারীপাড়ার সন্তান ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব সিকদারের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়াকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, দলের দুঃসময়ে পরীক্ষিত এই নেতা নতুন দায়িত্বে যুবদলকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

রাজনৈতিক পরিচয় : মাহাবুব সিকদার স্কুলজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পারিবারিকভাবেও তিনি বিএনপির আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

শিক্ষাগত ও সাংগঠনিক পরিচয় : শিক্ষাজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বগুণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীবান্ধব মনোভাবের মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক দায়িত্বসমূহ হলো-আহবায়ক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৭–১৯৯৮), নির্বাচিত সভাপতি, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (২০০১), সদস্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। সহ-সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল (পারভেজ-খোকন কমিটি), সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি (টুকু-আলিম কমিটি), সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি।

আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা : ১৯৯৫ সাল থেকে অদ্যাবধি বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সম্মুখসারির একজন সাহসী সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।

দলের নেতাকর্মীদের মতে, মাহাবুব সিকদার শুধু একজন সংগঠক নন, তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্ভীক নেতা। দলের সংকটময় সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

মামলা, কারাবরণ ও ত্যাগের ইতিহাস : রাজনৈতিক জীবনে মাহাবুব সিকদারকে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১১টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে তিনি প্রায় ১৯ মাস কারাভোগ করেন। এছাড়াও বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি এক হাজার ৮০ দিন কারাবরণ করেন। কারাগারে থাকাকালীন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন-মামলা-হামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্যদিয়েও তিনি কখনো দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি; বরং আরও দৃঢ়তার সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

উজিরপুর ও বানারীপাড়ায় আনন্দের জোয়ার : মাহাবুব সিকদারের এই অর্জনে উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, তাঁর এই পদায়ন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি উজিরপুর-বানারীপাড়ার মানুষের জন্যও এক বিরাট সম্মানের বিষয়।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন-যোগ্য, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী নেতাদের মূল্যায়নের ধারাবাহিকতায় মাহাবুব সিকদারের মতো একজন মেধাবী ও সংগ্রামী নেতার হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীরা মাহাবুব সিকদারের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, উজ্জ্বল রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে আরও বৃহত্তর অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :