সাম্প্রতিক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট ‘গুম নাটকের’ সমন্বয়ক বেল্লালের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল এক শিশুর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি প্রাথমিক শিক্ষা ডুবছে তাজমুন্নাহারে ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ প্রধান প্রবেশদ্বারে জলাবদ্ধতা, হারাচ্ছে ঐতিহ্য শিবপুর হাটের জৌলুস কঁচা, সন্ধ্যা, গাবখান ও কালিগঙ্গা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ—আকাশচুম্বি দরে দিশেহারা ক্রেতা অতি বৃষ্টিতে অ্যাম্বুলেন্সের ওপর ভেঙে পড়লো গাছ, ২ ঘণ্টা বন্ধ সড়ক কটিয়াদীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার পাহাড় ধস ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে বাড়ি দেবে সরকার

কঁচা, সন্ধ্যা, গাবখান ও কালিগঙ্গা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ—আকাশচুম্বি দরে দিশেহারা ক্রেতা

বর্ষাকালের ভরা মৌসুম। নদীতে এখন থাকার কথা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। কিন্তু পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা, সন্ধ্যা, গাবখান ও কালিগঙ্গা নদীতে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। দিন-রাত জাল ফেলেও অধিকাংশ জেলে ফিরছেন খালি হাতে। এতে জেলেদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে ইলিশের সরবরাহও হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে—সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে দেশের জাতীয় মাছ।
উপজেলার বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। আর প্রায় ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিনই দামে ওঠানামা করছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলায় প্রায় ২ হাজারের অধিক মাছ শিকারি জেলে রয়েছেন। তাদের অধিকাংশ পরিবারের প্রধান জীবিকা নদীতে মাছ ধরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় অনেক পরিবার এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে।
কঁচা নদীর একাধিক জেলে জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলেও অনেক দিন একটি ইলিশও ধরা পড়ে না। অন্য মাছ যা পাওয়া যায়, তা বিক্রি করেও নৌকার জ্বালানি, বরফ, জাল মেরামত ও শ্রমিকের খরচ ওঠে না। ফলে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে অনেককে।
জেলেদের ভাষ্য, “ভরা মৌসুমে এমন অবস্থা আগে খুব একটা দেখিনি। নদীতে সময় দিচ্ছি, পরিশ্রম করছি, কিন্তু মাছ নেই। বিকল্প কাজও নেই। অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।”
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় আড়তেও পর্যাপ্ত ইলিশ আসছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েই চলেছে। উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশের বিচরণ ও প্রজনন পানির প্রবাহ, লবণাক্ততার পরিবর্তন, নদীর নাব্যতা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং অতিরিক্ত আহরণের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। এ বছর পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ইলিশের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়াও ইলিশের চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশের উৎপাদন টেকসই রাখতে প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহায়তা কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
জেলেরা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নদীতে ইলিশের আগমন বাড়বে। অন্যথায় চলতি মৌসুমে তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতি ও মাছের বাজারেও।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :