সাম্প্রতিক
ম‍্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া হলো না মেসির ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ‘ঘুষ’ চাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা, বললেন ‘১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার আসে’ বিদায়ের আগে ডিসি সারওয়ারের চমক, এবার জানা যাবে মাজারের কত টাকা লুট হয় মসজিদ আল্লাহর ঘর, সেখানে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে: সংসদে রেজা আহাম্মেদ এমপি থেকে পিয়ন, সবার কাছে বিরোধীদলীয় নেতার ‘১০ কেজির সারপ্রাইজ’ সারা দেশে নতুন কর্মসূচি এনসিপির, নেতকর্মীদের জরুরি নির্দেশ জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় মতলবের রবি পোদ্দারকে জেলা প্রশাসকের কৃতজ্ঞতা পত্র নড়াইলে গলায় ফাঁস নিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা ঝালকাঠিতে যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য তছলিম হোসেন মৃধা আটক নিভে গেল বাবুগঞ্জের ‘খবরের বাতিঘর’ আর নেই সুলতান আহমেদ

বিদায়ের আগে ডিসি সারওয়ারের চমক, এবার জানা যাবে মাজারের কত টাকা লুট হয়

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা সিলগালা করা তিনটি ডেগের তালা খুলে দিয়েছেন সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্সগুলো খুলে গত চার দিনে জমা হওয়া অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) জোহরের নামাজের পর মাজার প্রাঙ্গণে এসব দানবাক্স ও ডেগের তালা খুলে দেন সারওয়ার আলম। পরে ডেগ ও দানবাক্সগুলোর অর্থ বের করা হয়। এরপর মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। এখনও চলছে টাকা গণনা।

মাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের দানের টাকার আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেওয়ার পর ডিসিকে প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে জন্ম দিয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ঠিক তখন সোমবার বেলা ১টা ১৫ মিনিটে শাহজালালের মাজারে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক। বিদায়ের আগে মাজারে জেলা প্রশাসকের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে দেখা দেয় সবার মাঝে কৌতূহল। এরপর খুলে দেন সিলগালা করা তিনটি ডেগের তালা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্সগুলো খুলে জনসম্মুখে টাকা গণনার কাজ শুরু করেন। এই টাকা গণনা শেষে ধারণা মিলবে যুগের পর যুগ দানের কত টাকা হয়েছে লুট। এমনকি দিনে কত টাকা দান আসে, তাও জানা যাবে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা জানান, সোমবার শাহজালালের মাজারে জোহরের নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসক। নামাজ শেষে বেলা ২টার দিকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সিলগালাকৃত ডেগ ও জেলা প্রশাসনের স্থাপনকৃত দানবাক্সের তালা খোলা হয়। পরে ডেগ ও দানবাক্স থেকে টাকা বের করা হয়। পরে সেগুলো গণনার জন্য নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত টাকা গণনা কার্যক্রম চলছে। দানের টাকা গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হবে।’

মাজার সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, মাজারের ইতিহাসে এই প্রথম প্রকাশ্যে এভাবে দানের বাক্স ও ডেগ খুলে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হলো। এতে জানা যাবে দিনে কী পরিমাণ অর্থ ডেকে পড়তো এতদিন।

টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে এক শিক্ষক জানিয়েছেন, আজকের দিন ছাড়া বিগত ইতিহাসে দানের টাকা ও মানতের পশু, স্বর্ণালঙ্কার এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের মাসিক দানের টাকা ভাগবাঁটোয়ারা হতো। প্রকাশ্যে এসব টাকা এতদিন লুট হলেও কেউ কিছু বলতো না। গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। আজ মাত্র চার দিন পর সোমবার সেই ডেগের তালা খুলে গণনায় নেমেছে জেলা প্রশাসন।

টাকা গণনা করতে করতে মাজার মাদ্রাসার একজন শিক্ষক বলেন, ‘এই চার দিনের টাকার হিসাব থেকেই জানা যাবে, যুগের পর যুগ ধরে এই মাজারে দানের কত টাকা লুট হয়েছে। দিনে কত টাকা আসে। এসব টাকা কোথায় যায়। এরপর এই লুটের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি তুলবো আমরা।’

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। এর বদলে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে নতুন দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়। নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এই দানবাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না। প্রশাসনের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।

শাহজালালের মাজারের দানের টাকা যায় কই, ডেগ সিলগালা করলো প্রশাসনশাহজালালের মাজারের দানের টাকা যায় কই, ডেগ সিলগালা করলো প্রশাসন
এ ঘটনার পর ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারভক্তরা দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ‘শাহজালাল, শাহজালাল’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মাজারের অভ্যন্তরীণ ঐতিহ্য ও ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন মাজারের খাদেম, আশেকান এবং ভক্তদের বড় অংশ। এমন পদক্ষেপের পর ‘আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ’-এর মতো কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিসি সারওয়ার আলমের তীব্র সমালোচনা করা হয়। তাকে ব্যর্থ জেলা প্রশাসক হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এর মধ্যে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করে। যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে দানবাক্স ও তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং মাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জেরে সৃষ্ট বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান অনেকে। দানবাক্স ও তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং মাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জেরে সৃষ্ট বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানালেন জাতীয় ইমাম সমিতির জেলা সভাপতি ও মাজারের ভক্তসহ একাধিক লোকজন।

 

Tags:

সম্পর্কিত খবর :