প্রতিটি ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই যার হাত ধরে বাবুগঞ্জের মানুষ জানতো দেশ-বিদেশের খবরাখবর, সেই পরিচিত মুখটি আর নেই। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী ‘সুলতান বুক স্টল’-এর স্বত্বাধিকারী ও প্রবীণ সংবাদপত্র ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো এলাকায় শোকের স্তব্ধতা নেমে এসেছে।
রহমতপুর স্টেশনের ‘সুলতান বুক স্টল’ কেবল একটা দোকান ছিল না, ছিল বাবুগঞ্জের সংবাদ অনুরাগী আর চিন্তাশীল মানুষদের প্রতিদিনের মিলনমেলা। দীর্ঘ বছর ধরে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সংবাদপত্র বিলি করে আসা সুলতান আহমেদ ছিলেন এই বাতিঘরের প্রাণপুরুষ।
পাঠকের প্রিয় মুখ: এলাকার সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের আস্থার জায়গা ছিলেন তিনি।
স্থানীয় এক প্রবীণ পাঠক জানান। যুগের পর যুগ ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিষ্ঠার সাথে পত্রিকা পৌঁছে দিয়েছেন পাঠকের হাতে।
”তিনি শুধু পত্রিকা বিক্রি করতেন না, মানুষের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করতেন। তাঁর চলে যাওয়া বাবুগঞ্জের সংবাদপত্র জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
সুলতান আহমেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাবুগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ, পাঠক মহল ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন কর্মঠ, সজ্জন ও সদালাপী মানুষকে হারিয়ে শোকাতুর আজ রহমতপুর স্টেশন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে তাঁর পরিবারের প্রতি।
মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন এই মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করুন।











