সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়ার নেশায় বিপুল অংকের টাকা হারিয়ে হতাশায় ‘গ্যাস ট্যাবলেট’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন মো. ইমরান হোসেন (২৩) নামে এক যুবক। গত ২৭ এপ্রিল রাতে সাতক্ষীরা শহরের বড় বাজার সংলগ্ন নিজ বাসভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জুয়ার করাল গ্রাসে একটি সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ইমরান হোসেন সাতক্ষীরা বড় বাজারের প্রতিষ্ঠিত গুড় ব্যবসায়ী মো. মোসলেম হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান গত কিছুদিন ধরে স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং বা ডিজিটাল জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। জুয়া খেলার নেশায় পড়ে গত কয়েক দিনে তিনি ধাপে ধাপে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা হারান। এতো বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি এবং ঋণের বোঝা সইতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই হতাশা থেকেই গত সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তিনি বিষাক্ত ‘গ্যাস ট্যাবলেট’ সেবন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ইমরান হোসেন বিবাহিত ছিলেন। তার কোলজুড়ে রয়েছে একটি শিশু সন্তান। স্বামীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা এখন বাকরুদ্ধ। জুয়ার মরণনেশা কীভাবে একটি সাজানো সংসার ও ফুটফুটে শিশুর ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাবার অকাল প্রয়াণে শিশুটি এখন পিতৃহারা এবং পরিবারটি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে।
সোমবার রাতে ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, শান্ত স্বভাবের এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে তারা শোকাহত। একই সাথে তারা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া, বিশেষ করে বিভিন্ন অ্যাপ ও সাইটের মাধ্যমে চলা ‘বেটিং’ ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।












