সাম্প্রতিক
প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করেন না: চিফ হুইপ জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ আমেরিকাকে হাঁটু গেড়ে বসিয়েছে ইরান, ভারতীয় পন্ডিতের বক্তব্য ভাইরাল লালপুরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিষপান, রাজশাহীতে স্থানান্তর কুষ্টিয়া মিরপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠি শ্রীপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত স্বপ্ন বুকে নিয়ে পথচলা তিন বন্ধুর একসঙ্গে বিদায়, শোকে স্তব্ধ জাফলং বর্ণাঢ্য আয়োজনে নেত্রকোণায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উৎযাপন নওগাঁয় কৃষি প্রণোদনা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

আমাগো কষ্ট কেউ দ্যাখে না’ রাজারহাটে ১৫দিনে ১৯টি বাড়ি নদী গর্ভে

“চোখের নিমিষে বাড়িভিটা নদী খায়া গেলো। চার চারটা ঘর কোন রকমে সড়ে নিয়া গ্যাছি। ৩টা আম গাছ, ১টা জাম গাছ, কাটার আগেই নদীত ডুবি গেলো। এই শোকে দুঃখে বাড়ি ভাঙার তিনদিন পর বাবা কাদের আলী (৬০) মারা গেলো। কোন রকমে চর বিদ্যানন্দ থাকি দক্ষিণে আনন্দ বাজারে অন্যের জমিতে ঘর উঠাইছি। আমাগো কষ্ট কেউ দ্যাখে না।” বুকে কষ্ট চেপে মুখ শক্ত করে কথাগুলো বললেন মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে কাফি(৩৫)।
সরজমিন সোমবার(৬জুলাই) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইঊনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম ঘুরে দেখা গেল, ভাঙনের তান্ডব। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাব্যাপী তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন চলমান রয়েছে। ভাঙনে রক্ষা পায়নি বাড়ি-ঘর, গাছপালা কিংবা আবাদী জমি। কৃষকের বাদাম, আমন ধানের বীজতলা, মরিচ, বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজী, পাট ও ভূট্টা নদী গর্ভে চলে গেছে। তিস্তা নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে ও বাতাসের কারণে কিছুক্ষণ পর পর চাপে চাপে ফসলি জমিন নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে।
এরকম পরিস্থিতিতে নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে দুই গ্রামের মানুষ তিস্তা পাড়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন রচনা করে। এসময় বক্তব্য রাখেন, মাঈদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আশরাফুল হক প্রমূখ।
চর বিদ্যানন্দ গ্রামের জয়নাল ও মাঈদুল জানান, গত ১৫দিনে চর বিদ্যানন্দ ও তৈয়বখাঁ গ্রামের ১৯টি বাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। এরমধ্যে চর বিদ্যানন্দে গৃহহীন হয়েছে কাফি (৩৫), আ: জলিল (৫৫), রশিদুল ইসলাম (৩৩), গনি মুন্সী (৫০), মোতালিব (৫০), আশরাফুল (৬০), লোকমান (৫০), জয়নাল (৬০) আ: সালাম (৪৫), রফিকুল (৪৫), সফিকুল (৩০)।
এ ছাড়াও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে মোস্তফা কামাল (৫৫), রোস্তম (৫০), সাত্তার (৬০), জহুরুল (৪২), আইয়ুব আলী (৬৫), মোকছেদ (৪৫), রওশন আরা (৫০), ফকরুল ইসলাম (৪৫)।
তৈয়বখাঁ গ্রামের রোস্তম আলী জানান, এই নিয়ে ৫বার বাড়িভিটা নদী গর্ভে চলে গেছে। সেই সাথে আড়াই বিঘা পাট ও আমন ধানের বীজতলা নদী ভেঙে নিয়ে গেছে। অনেক কষ্টে অন্যের জমিতে ঘর তুলে আছি। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন সহযোগীতা পাই নাই।
চর বিদ্যানন্দ গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দু’টি মসজিদ ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্কুল ঘরটি ভেঙে গেলে ছেলে -মেয়েদের লেখা-পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। এছাড়া দুই শতাধিক বাড়ি ভাঙন হুমকীতে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে চরের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হবে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, আমার ইউনিয়নের ৭৫ভাগ এলাকা মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেছে। বাকীটাও বিলীনের পথে। এছাড়াও বর্তমানে চর বিদ্যানন্দ ও তৈয়বখাঁ গ্রাম দুটি ভাঙতে ভাঙতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সীমানায় গিয়ে ঠেকেছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলা জুড়ে প্রায় ৪০টি পয়েন্টে ভাঙন চলমান রয়েছে। জনগুরত্বপূর্ণ বিবেচনা করে প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ২লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। চরাঞ্চলের জন্য বাজেট না থাকায় আমরা সেখানে কাজ শুরু করতে পারেনি।#

Tags:

সম্পর্কিত খবর :