গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ভাড়া বাসায় ইয়াবাসহ এক নারী ক্রিয়েটরকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের অবরুদ্ধ করলেও রাতভর তৎপরতার মাধ্যমে বড় অঙ্কের উৎকোচ বিনিময়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৭ জুন (বুধবার) রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় ইয়াবাসহ এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় অবরুদ্ধ করে স্থানীয় জনতা। ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর গাইবান্ধায় যোগদানের পর থেকেই ‘রঞ্জ’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মাধ্যমে জেলার একাধিক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সেই সুবাদে প্রায়শই ওই ভাড়া বাসায় নারী ক্রিয়েটরদের নিয়ে মাদক সেবন ও অনৈতিক আড্ডার আসর বসাতেন তিনি।
ঘটনার দিন রাতে ‘নিঝুম’ নামের স্থানীয় এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে নিয়ে ওই বাসায় মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘেরাও করে তাদের হাতেনাতে অবরুদ্ধ করে রাখে। আটক নারীও একজন নিয়মিত ইয়াবা সেবী বলে জানা গেছে।
অবরুদ্ধ হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শুরু হয় পর্দার আড়ালে তৎপরতা। স্থানীয় প্রশাসন ও এক প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় মোটা অঙ্কের অর্থ উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে গভীর রাতে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর ও ওই নারী। আইনের রক্ষক হয়ে খোদ ট্রাফিক সার্জেন্টের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক সহকর্মী জানান, পরিকল্পিতভাবে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ফাঁসানো হয়েছে এবং ওই নারী একজন চিহ্নিত ইয়াবা খোর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে প্রাথমিক শাস্তি হিসেবে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর থেকে পুরো জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের এমন আচরণে সাধারণ মানুষ হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।










