চরফ্যাশনের নুরাবাদ ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাৎ
অতঃপর সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার পরিবার।
গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকাল থেকে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলতে থাকায় বিদ্যালয়ের শ্রেণির পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরাবাদ ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষক হিসেবে বিনা বেতনে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ভুক্তভোগী মো: নাজিম। তাকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। তবে পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী শিক্ষক নাজিমকে বঞ্চিত করে ওই পদে অন্য একজনকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় শিক্ষক সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মো: নাজিমের বিপিএড সনদ না থাকায় তাকে আইনিভাবে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষকের অপূরণীয় ক্ষতির কথা চিন্তা করে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন সালিশকারীরা। এই টাকা পরিশোধের জন্য প্রধান শিক্ষককে তিন মাস সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো নাজিম জানান, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। পাওনা টাকা ফেরত ও প্রধান শিক্ষকের কোনো হদিস না পেয়ে নিরুপায় হয়ে পরিবারসহ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
এদিকে দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলে থাকায় এবং পাঠদান বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুত এই অর্থ জালিয়াতির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও পাঠদান ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।



