মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে দাম অনেক বেড়ে গেলে দেশেও গত এপ্রিলের মাঝামাঝি দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার।
আজ রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। আজ রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার। তবে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। দেশেও তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন বাড়তে থাকে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার এক দিন পর গত ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশন থেকে ভিড় কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।











