সাম্প্রতিক
ছাগলনাইয়ায় ২৬ কেজি গাঁজা ও প্রাইভেট কারসহ আটক -১ মাধবপুরে ইজারাবিহীন সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, হুমকিতে পরিবেশ ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ পিস ইয়াবাসহ অভিযুক্ত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার চরফ্যাশনে নজরুল শতবর্ষ পুর্তিতে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে টিউবওয়েলের পাশে জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বানারীপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ২২ টি হাঁস মেরে ফেলার অভিযোগ ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ৫০ বাংলাদেশি মাকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ধর্ষকের ঘরে গিয়ে ৪ ছেলে মিলে ধর্ষককে জবাই করে হত্য পিরোজপুরে মোবাইল কোর্টে ইয়াবা সেবনের দায়ে দুই যুবকের ২০ মাস করে কারাদণ্ড মাকে ধর্ষণের অভিযোগে ৪ ছেলে মিলে ভাড়াটিয়াকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ

মাধবপুরে ইজারাবিহীন সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, হুমকিতে পরিবেশ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় শিমলা ছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে ইজারা ছাড়াই সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সিলিকা বালু উত্তোলন করছে। এতে একদিকে পরিবেশ ও নদী-ছড়ার তীরবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
অভিযোগ রয়েছে, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি কোয়ারি ইজারা না নিয়েই ড্রেজার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিমলা ছড়া, শাহপুর ছড়া ও সোনাই নদীসহ কয়েকটি নদী ও ছড়া থেকে নিয়মিত বালু তোলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। পাশাপাশি তীরভাঙন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা এবং স্থানীয় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সভাপতি আলফাজ মহালদার, উপজেলা বিএনপির নেতা হাজী ফিরোজ, মাসুদ মোল্লা,কবির আলম, হেলাল মিয়াসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা  বিভিন্না ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এবং তারা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে। উপজেলা বিএনপির  নেতা মাসুদ মোল্লা মোঠোফোনে বলেন,  আমাদের সোনাই নদীর সিলিকা বালির ইজারা আছে, আমরা বোয়ালি বা শিমলা ছড়া থেকে বালি উত্তোলন করি না। তবে সরেজমিনে গিয়ে  দেখা যায়  শিমলা ছড়া থেকে  ৮/১০দশটি বালু বহনকারি নৌকা দিয়ে পাচার করা হচ্ছে, তার মধ্যে আবার একদল ৭০০/৮০০ টাকা করে প্রতি নৌকায় চাঁদা তুলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান, নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের মতো বালু উত্তোলন শুরু হয়। প্রকাশ্যেই ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ অবস্থায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, নদী, ছড়া ও পরিবেশ রক্ষায় ইজারাবিহীন বালু উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি কারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, কারা তাদের সহযোগিতা করছে এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :