ভোর ৫টায় মিরপুরের কাজীপাড়ার বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন মেজবাহ হক। উদ্দেশ্য আসাদগেটে সোনার বাংলা পেট্রোল পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে তেল ভরবেন।
বৈশাখের প্রথম দিনের ভোরবেলায় ‘ঠান্ডা ঠান্ডায়’ তেল নেবেন এমন পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যখন পাম্পে এলেন ততক্ষণে বাইকের লাইন এক কিলোমিটার দীর্ঘ হয়েছে।
অগত্যা শেষে গিয়ে দাঁড়ালেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে যখন মেজবাহর সঙ্গে কথা হয় তখন তিনি পাম্পের মুখে অবস্থান করছিলেন, সামনে আর ১০-১২টার মতো মোটরসাইকেল।
জানতে চাইলে শুকনো হাসি হেসে মেজবাহ বললেন, “দুই মেয়েকে বলে এসেছিলাম তেল নিয়ে এসে ঘুরতে বের হব।
“কিন্তু এখনই যে পরিমাণ ক্লান্তি লাগছে বাসায় গেলে এক সেকেন্ডও দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি থাকবে না মনে হয়।”
মেজবাহ তেল পেলেও দুপুর ১টার দিকে এ ফিলিং স্টেশন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘তেল শেষ হয়ে গেছে’। তখনও লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েকশ’ বাইক ও গাড়িচালক।
ছুটির দিন পহেলা বৈশাখেও ঢাকার তেল পাম্পগুলোতে তেল নিতে আসা লোকজনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বৈশাখের খর তাপ উপেক্ষা করেই তারা ৬-৭ ঘণ্টা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন তেল নিতে।
একই লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী শিহাব ইমরান বলছেন, “সরকার একটা ‘ফুয়েল’ পাস অ্যাপ করলো দুটি পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য। কিন্তু দুদিনও সেই অ্যাপ চালু থাকল না। আজকে দেখলাম অ্যাপটা চালু হয়েছে।
“কিন্তু এই পাম্পে অ্যাপের জন্য আলাদা কোনো লাইন নাই, সুবিধাও নাই। অথচ বলা হয়েছিল, ট্রাস্ট ও সোনার বাংলা পাম্পে অ্যাপ ছাড়া তেলই দেওয়া হবে না।”
আসাদ গেটে সংসদ ভবনের ফটকে তালুকদার পাম্পে তেল নিতেও গাড়ি আর মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পার হয়ে রাস্তার পাশে হাতের বামে সার বাঁধা গাড়ির পাশে সারি বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা মোটরসাইকেলগুলো। চালকেরা সব ফুটপাতে গাছের ছায়ায়।
যখনই সামনে এগোনোর ডাক আসছে, সবাই পড়িমড়ি করে রাস্তায় নেমে আসছেন। যার যার মোটরসাইকেল ঠেলে সামনে এগোচ্ছেন। একবারে সর্বোচ্চ কয়েকগজ এগোনো যাচ্ছে। এর মধ্যে পাম্পের তেল শেষের ঘোষণাও এসেছে।
লাইনে দাঁড়ানো প্রকৌশলী ইফতেখার বলছেন, “মানুষের এত ভোগান্তি হচ্ছে অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কথাই বলছে না এটা নিয়ে। প্রথম প্রথম বলা শুরু করল তেলের সংকট নেই।
“অথচ তখন থেকে এখন পর্যন্ত লাইন খালি বড়ই হয়েছে। তেলের সংকট না থাকার পরেও কেন এত দুর্ভোগ এ বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা উচিত।”
ক্ষুব্ধ এই প্রকৌশলী বলেন, “আরে ভাই আমার এসি-ফ্রিজের ব্যবসা। এখন মৌসুম শুরু হয়েছে অথচ আমি ছুটতে পারছি না। তেল নাই।
“একটা পহেলা বৈশাখ পরিবারকে সময় দিব কী, পাম্পেই সারা দিন চলে যাচ্ছে।”












