কয়রায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের লুটপাটের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

বুধবার,৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মৎস্য ঘের লুটপাট, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী শেখ। তিনি স্থানীয় বাগালী ইউনিয়নের সামাদ শেখের ছেলে।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, ১ জুন সকালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে জাফর, হাসানুর, ইমরান, ফিরোজ, বাবু, জাহাঙ্গীরসহ ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে তাঁর মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা ঘেরের বাসা ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

​ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তাঁদের পূর্বশত্রুতা রয়েছে। বর্তমান মৎস্য ঘেরটি ভোগদখল করার জন্য ইকবাল হোসেন তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনার দিন লুটপাটের খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর ভাই আব্দুল কাদের ঘেরে গেলে হামলাকারীরা তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্থানীয়রা এসে তাঁদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৭-৮ জনের নাম উল্লেখ করে কয়রা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দাবি করেন, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

​খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি এ প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

Tags:

সম্পর্কিত খবর :