সাম্প্রতিক
কমলনগরে কৃষকলীগ নেতার বিরুদ্ধে দোকানঘর দখলের অভিযোগ ‎ পৈতৃক জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভ যুবককে অপহরণ করে নির্যাতন যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে হিজলায় দেওয়ান সালাউদ্দিন রিমনের নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণ: ডা. রাজীবকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ নোবিপ্রবিতে মধ্যরাতে তাণ্ডব: শিক্ষার্থীর স্বামীর মাথা ফাটালেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাগুরার শ্রীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও লিফলেট বিতরণ শেরপুরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় পুশইনে ব্যর্থ বিএসএফ নামাজ পড়তে গিয়ে ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা প্রতিবন্ধী চালক

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণ: ডা. রাজীবকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি

রবিবার,৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে রোগীদের মাঝে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. রাজীব দে সরকারকে।
জানা যায়, গত ৩ জুন রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে রোগীদের মাঝে বিতরণ করা Esoral 40 (ইসোরাল-৪০) নামের গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের একটি অংশের মেয়াদ প্রায় দুই মাস আগে শেষ হয়ে গেলেও তা ভুলবশত রোগীদের হাতে পৌঁছে যায়। বিষয়টি কয়েকজন ভুক্তভোগী রোগী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরলে তা দ্রুত আলোচনায় আসে এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ও সিনিয়র চিকিৎসক ডা. রাজীব দে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানকে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এরপর হাসপাতাল প্রশাসন একাধিক বৈঠক করে ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে। ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান, জিসান, হামিদুর রহমানসহ কয়েকজন রোগী হাসপাতাল প্রশাসন ও গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন যে, তাদের হাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— ডা. রাজীব দে সরকার (সভাপতি), ডা. গৌতম কুমার সরকার (জুনিয়র কনসালটেন্ট, চর্মরোগ), ডা. তাপদ চন্দ্র মণ্ডল (জুনিয়র কনসালটেন্ট, নাক-কান-গলা বিভাগ), ডা. কামরুজ্জামান (জুনিয়র কনসালটেন্ট, সার্জারি) এবং ডা. মো. বেলায়েত হোসেন (আরএমও)।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, “প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৩০০ নতুন এবং ১ হাজার ৬০০ পুরোনো রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ফলে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ব্যবহার ও বিতরণ করতে হয়। সরকারি বা বেসরকারি কোনো পর্যায়েই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের সুযোগ নেই। ওষুধের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমরা সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করি এবং দ্রুত ব্যবহারের নির্দেশনা দিই।”
ফার্মেসি বিভাগে কর্মরত মিসেস চায়না জানান, স্টোর থেকে সরবরাহ করা ওষুধ রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, “একসঙ্গে অনেক ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি কার্টনে থাকা কিছু ইসোমিপ্রাজোলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, যা ভুলবশত বিতরণ হয়ে যায়। অন্য কার্টনগুলোর একই ধরনের ওষুধের মেয়াদ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। মূলত এ কারণেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।”
তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. রাজীব দে সরকার বলেন, “সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কোনো এক পর্যায়ে ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তদন্ত কমিটি গঠনের আগেই আমি স্টোরকিপার, ফার্মাসিস্ট ও ওয়ার্ড মাস্টারের সঙ্গে কথা বলেছি। কোন স্তরে দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে। রোগীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বশীল ও আন্তরিক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।”
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালটি জেলার পাঁচ উপজেলার প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল। সম্প্রতি হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হলেও চিকিৎসক ও জনবল সংকট এখনও প্রকট। এমন পরিস্থিতিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের ঘটনা রোগীসেবা ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :