নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দেহাবশেষ উত্তোলন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজকে। গত রোববার এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি সিলেটে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।
এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী সংস্থা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন করেন। পরে ২৪ মে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের আবেদন করলেও আদালত তা নথিভুক্ত করে আগের আদেশ বহাল রাখেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আলোচিত এই মামলার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন ঢাকার ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরে ১৯৯৭ সালে সেটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়।
গত প্রায় তিন দশকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও প্রতিটি প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই এসব তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
সর্বশেষ ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির নতুন তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ আমলে নিয়ে রমনা মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই মৃত্যুরহস্যের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং তদন্তে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহুল আলোচিত মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।












