চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় নকলের অভিযোগে সাত পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচজন কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষককে মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি দল কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করে পরীক্ষা দিচ্ছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কেন্দ্র সচিব মাসুদ পারভেজ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বোর্ডের প্রতিনিধি দলের তল্লাশিতে সাত পরীক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়। পরে পরীক্ষার বিধিমালা অনুযায়ী তাদের পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে পাঁচজন কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষককে মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বহিষ্কৃতদের মধ্যে নাউরী আদর্শ কলেজের ছয়জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী এবং নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজের একজন নিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় নিজেদের পরিহিত শার্টের ভেতরে বিভিন্ন তথ্য লিখে নিয়ে আসে। পরিদর্শনের সময় বিষয়টি ধরা পড়লে বোর্ডের প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় হাতে-নাতে নকল পাওয়ায় সাত পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ঘটনার পর কেন্দ্রে বাকি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও বিষয়টি পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের এমন কঠোর পদক্ষেপে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।











