আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে এনেছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের মেধাবী শিক্ষার্থী এম এ সায়েম প্রিয়ন্ত। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও রোবটিক্সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনি প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড (স্বর্ণপদক) অর্জন করেছেন। তার এই অসাধারণ সাফল্যে মতলব দক্ষিণসহ পুরো চাঁদপুর জেলায় আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রিয়ন্ত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির (ইংরেজি ভার্সন) শিক্ষার্থী। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত International Invention and Innovation Competition (IIIC) এবং Innovation World Cup-এ অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের উদ্ভাবনী দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন প্রিয়ন্ত। আন্তর্জাতিক বিচারকদের মূল্যায়নে তার প্রকল্প বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং সেরা উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে স্থান করে নেয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই অর্জনের মাধ্যমে প্রিয়ন্ত শুধু নিজের পরিবার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই নয়, বরং মতলব, চাঁদপুর এবং সমগ্র দেশকে গৌরবান্বিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
প্রিয়ন্তের এই সাফল্যে কেএফটি পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। কেএফটির প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাস বলেন, “প্রিয়ন্তের এই অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। তার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেন কামাল বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে আমরা সবসময় আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছি। প্রিয়ন্তের এই আন্তর্জাতিক সাফল্য আমাদের সেই প্রচেষ্টারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভবিষ্যতেও তার গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
এম এ সায়েম প্রিয়ন্ত তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। এই অর্জন আমাকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
এদিকে প্রিয়ন্তের এই কৃতিত্বে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রিয়ন্তের মতো উদ্ভাবনী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। প্রিয়ন্তের এই অর্জন দেশের তরুণ সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।












