সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন স্লোগানে সজ্জিত র্যালিটি গ্রামীণ উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়নের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রামীণ উন্নয়ন। একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগকে সফল করতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গ্রাম হবে উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্র। আধুনিক, পরিকল্পিত ও স্বনির্ভর গ্রাম গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক জোমারত আলী, জেলা ইউনিট সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া একটি উন্নত রাষ্ট্র কল্পনা করা সম্ভব নয়। শিক্ষা, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার রেজাউল করিম, উপজেলা আমির। তিনি গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
র্যালি ও আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বিআরডিবির সদস্য, সমবায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে দিবসটির আয়োজন প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
আয়োজকরা জানান, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা, আত্মনির্ভরশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে সমন্বিত করা। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি গ্রামীণ উন্নয়ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।











