রাজবাড়ীতে এলপিজি গ্যাসের চাহিদাকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডারে অবৈধভাবে ক্রস ফিলিং করে বাজারজাতের মাধ্যমে ভোক্তাদের প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত ২১ জুলাই বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার কল্যাণপুর বাজারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কার সিদ্দিক-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস ক্রস ফিলিং ও বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযান শেষে বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না—এ মর্মে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়।
জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর থেকে বিভিন্ন উপায়ে গ্যাস এনে নামী কোম্পানির সিলিন্ডারে অবৈধভাবে ক্রস ফিলিং করে বিক্রি করে আসছিলেন। এতে ভোক্তারা নির্ধারিত পরিমাণ গ্যাস থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনুমোদন ছাড়া এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর বা ক্রস ফিলিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি গ্যাসের পরিমাণ ও মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ভোক্তা প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়।
অভিযানকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারদের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে এলপিজি গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ওমেরা এলপিজির ডিস্ট্রিবিউটর স্বপ্তবর্ণা ট্রেডার্স-এর মালিক রণজিৎ সরকার বলেন, “ক্রস ফিলিং সম্পূর্ণ অবৈধ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভোক্তারা ওজনে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।” তিনি ভোক্তাদের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারদের কাছ থেকেই গ্যাস কেনার আহ্বান জানান।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবারের ব্যবহারের জন্য তিনি বসুন্ধরা কোম্পানির একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছিলেন। পরে ওজন করে অস্বাভাবিকতা দেখতে পান। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তে সিলিন্ডারে অবৈধ রিফিলিং এবং ভেতরে পানি থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে প্রমাণিত হয়, অধিক মুনাফার আশায় একটি চক্র বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে এলপিজি ক্রস ফিলিং করে বাজারে বিক্রি করে আসছিল।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস সংরক্ষণ, ক্রস ফিলিং ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের সিল, ওজন ও কোম্পানির পরিচিতি যাচাই করে অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে সিলিন্ডার কেনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রকে শনাক্ত করতে মাঠে কাজ করা হয়েছে। গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষায় অনুমোদিত এজেন্টদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”












