সাম্প্রতিক
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস আহত টিসিবির পণ্য নিতে এসে দেয়াল ধসে মেয়ের মৃত্যু সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদলেন মা প্রেমিকের সঙ্গে কথার সময় শিশুর কান্না ৩ বছরের সন্তানকে হত্যা মায়ের আইনজীবীদের হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৭ জন আহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাবুগঞ্জে রমরমা মাদক ব্যবসা: হুমকির মুখে তরুণ সমাজ, জিরো টলারেন্স নীতির দাবিতে সচেতন মহল বিএনপি শুধু ছাত্রদল-যুবদলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক হামলা বন্ধের পর জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ২.২ শতাংশ রাজিবপুরে ইউপি সদস্য পদে সবার দোয়া ও সমর্থন চাইলেন জহুরা খাতুন কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্টিত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল: আতঙ্কে এলাকাবাসী, তদন্তের দাবি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় অস্ত্র হাতে দুই যুবকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পরিবারের দাবি খেলনা পিস্তল। তবে প্রেক্ষাপট বলছে একে অপরকে ঘায়েল করতেই এ অপচেষ্টা। এ ঘটনায় সঠিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গত ১০-১৫ দিন পূর্বে ফেসবুকে দৌলতদিয়া হুমায়ুন শেখ নামের ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশিত হয়। সে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সোহরাব শেখের পাড়ার হাশেম শেখের ছেলে। একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর অপরাধী চক্রের প্রধান তিন হোতা হলেন হুমায়ুন শেখ, রনি ও অনিক। কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে অস্ত্র হাতে এক যুবকের একটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি জানতে রাজবাড়ীর সাংবাদিক এক সাংবাদিকের সাথে কথা হলো। তিনি দৌলতদিয়ার অপরাধ নিয়ে মাঝেমধ্যে রিপোর্ট করে থাকেন।
ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছবিটি অরিজিনাল। এ ছবিটি তিনি ডিবি পুলিশকে দিয়েছিলেন সত্যতা যাচাই করার জন্য। ডিবি পুলিশ ছবিটি সত্য বলে তাকে নিশ্চিত করেছে। এরপর তিনি আমাকে কয়েকটি ভিডিও পাঠান। এতে দেখা যাচ্ছে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন হুমায়ুন। গেটে এসেই তিনি একটি পিস্তল বের করেন কোমর থেকে। এ সময় তিন যুবক হেঁটে আসছিলেন তার দিকে। এ যুবকের বিরুদ্ধে কুপিয়ে অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করার মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা ৫টি। কিন্তু তিনি অধরা। তার বাবার নাম হাশেম শেখ তিনি। তার বাড়ি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার সামছু মাস্টারের পাড়ায়।
হুমায়ুনের ফেসবুক ওয়ালে ওই ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং এটা তার নিজেরই কাজ। কিন্তু কেন তিনি এটা করলেন? হয়তো তিনি ডন সাজতে চান। অন্যদের ভয় দেখাতে চান এ বলে যে তার কাছে অস্ত্র আছে। আর অস্ত্রধারীকে সাধারণ মানুষ ভয় পাবেন-এটাই তো স্বাভাবিক।
আরেকটি সূত্র বলছে, হুমায়ুন শেখের অন্যতম সহযোগী রনি ও অনিক। রনির বাবার নাম সুলতান ড্রাইভার আর অনিকের বাবার নাম আইয়ুব আলী খান। এ চক্র দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতেও জড়িত। তাদের ভয়ে তটস্থ যৌনকর্মীরা। কিন্তু কেন বাড়ছে এই চক্রের অপকর্ম এই প্রশ্নের উত্তর হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শৈথল্য। সূত্র বলছে, যৌনপল্লীর রুমার বাড়ি
-অন্তত চারজন ঢুকরি (অপ্রাপ্ত বয়স্ক যৌনকর্মী) রয়েছে। এ ছাড়াও অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়িতে ছুকরি রয়েছে। রনি ও অনিক এসব ছুকরির মালকিনদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করে বলে সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে।
যৌনপল্লীর বাসিন্দারা বলছেন, আগে মাঝেমধ্যেই যৌনপল্লীতে পুলিশ অভিযান চালাত। আর এই অভিযান হতো থানা পুলিশকে না জানিয়ে। ফলে সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হতো। অন্যরা ভয়ে পালিয়ে যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই অভিযান হচ্ছে না অদৃশ্য কারণে। ফলে সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অপরদিকে সম্প্রতি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার আরেক ছবি আইয়ুব পালের অস্ত্র সহ সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও বাইপাস এলাকায় অস্ত্রধারী এক কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দৌলতদিয়া শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা আয়ুব পাল এবং নুরু কাজি মিলে একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছে।
এ বিষয়ে হুমায়ুনের নাম্বারে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।
আইয়ুব পাল মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ছবিটি অনেক আগের খেলনা পিস্তল। আমরা আবেগের বসে তখন ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে ছিলাম। আর চাঁদাদাজির কথা বলা হলেও এটা বানোয়াট আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের কোন অভিযোগ এলাকায় নেই।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যতদুর জানি আইয়ুব পালের এ ছবিটি চার বছর আগেকার। তখন এ বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং চার বছর জেল খেটেছে। তবে এ সকল বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ সর্বচ্চ সতর্কবস্থায় রয়েছে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :