নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা থেকে পাচারের সময় ২০ লিটার চোরাই মবিলসহ রুহুল আমিন শান্ত নামে এক শ্রমিককে আটক করেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে কারখানার প্রধান গেটে তল্লাশিকালে তাকে আটক করা হয়।
আটক রুহুল আমিন শান্ত কারখানার টুল রুম শপের কর্মচারী (টিকিট নং- ৭৪৩৪)। তিনি সৈয়দপুর শহরের উত্তরা আবাসন এলাকার রশিদের ছেলে।
যেভাবে আটক হলেন
কারখানার আরএনবি ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান ববি জানান, সকালে ছুটির পর ওই শ্রমিক একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর বোতলে করে মবিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রধান গেটে তল্লাশিকালে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শপ থেকে মবিলগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। আরএনবি ইনচার্জ আরও বলেন,
”ডিএস মহোদয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে এসব ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। শ্রমিকদের এমন আচরণ বিড়ম্বনাকর। যেহেতু অন্য শ্রমিকদের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে, তাই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। জব্দকৃত মবিলসহ তাকে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা ও চুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের মতো সংঘবদ্ধ বড় চুরি এখন না থাকলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নাট-বল্টু, ব্যবহৃত মবিল বা গ্রিজ চুরির ঘটনা ঘটছে। ছুটির সময় একসঙ্গে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক বের হওয়ার কারণে শতভাগ তল্লাশি করা কঠিন হয়ে পড়ে, যার সুযোগ নেয় অনেকে। তবে চুরিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, মবিল চুরির ঘটনায় আটক শ্রমিকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটিকে একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারখানায় কোনো ধরনের চুরিই বরদাস্ত করা হবে না। এর আগেও বৈদ্যুতিক তার চুরির অপরাধে একজন অস্থায়ী (টিএলআর) শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
চুরির নেপথ্যে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
এদিকে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, কারখানার নিরাপত্তায় নিয়োজিত আরএনবি ও আনসার সদস্যদের একাংশের সাথে যোগসাজশ করেই দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বৈদ্যুতিক তার, মবিল, প্লেনশিটসহ ট্রেনের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে বাইরে বিক্রি করছে। এছাড়া কারখানার পূর্ব পাশের গোলাহাট এলাকার লোহা চোর চক্র সীমানা প্রাচীর ডিঙিয়ে নিয়মিত চুরি চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে দু-একজন আটক হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় চুরির প্রবণতা কমছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।












