রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি এলাকায় একটি ভেঙে পড়া বাঁশের সেতুর কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নৌকা না থাকলে কৃষক-কৃষাণীসহ অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে নদী পার হয়ে কৃষিজমিতে যাতায়াত করছেন এবং কৃষি উপকরণ ও উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে যাওয়া বাঁশের সেতুর পাশে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কাজ করছেন। তারা জানান, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে নদীর ওপারে যাদের কৃষিজমি রয়েছে, তাদের চাষাবাদের প্রয়োজনে নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করতে হয়। আগে বাঁশের সেতুটি থাকায় চলাচল সহজ ছিল, কিন্তু সেটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় এখন পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় গৃহিণী মর্জিনা বেগম বলেন, “একজনের নৌকা আছে, কিন্তু তিনি সব সময় নৌকা দেন না। এ এলাকার প্রায় সবারই নদীর ওপারে কৃষিজমি রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে নারী-পুরুষ সবাইকে সাঁতরে কৃষি সামগ্রী নিয়ে পারাপার করতে হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হয় এবং শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সেলিম শেখ বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা কষ্ট করে এ নদী পার হচ্ছি। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলা যায়, কিন্তু বর্ষা এলেই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। একটি সেতু নির্মাণ হলে কয়েকশ মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।”
স্থানীয় কৃষক মোঃ হাফিজুল মোল্লা বলেন, “প্রতিদিন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। সেতু না থাকায় অনেক সময় ঘুরপথে যেতে হয়, এতে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া দুটোই গুনতে হয়। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম বাঁচবে এবং যাতায়াত নিরাপদ হবে।”
ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষার্থী লামিম জানায়, সেতু ভেঙে যাওয়ার পর তাকে এখন অনেকটা পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও কষ্ট দুটোই বেড়েছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, “স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আপাতত সেখানে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ অথবা অন্তত নিরাপদ অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হোক। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, কৃষিকাজে গতি আসবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের অবসান ঘটবে।












