নিহত ফারজানার পরিবারের দাবি, শুধুমাত্র সোনার কানের দুলের লোভে সুরাইয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। দুপুরের দিকে ফারজানা বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সুরাইয়ার বাড়িতে সন্দেহজনক তৎপরতার বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত সুরাইয়া দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রির আড়ালে এমন কোনো অশুভ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার আকস্মিকতায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তারা অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভের মুখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মরদেহ উদ্ধারে বেগ পেতে হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত সুরাইয়া আক্তারকে আটক করে ইট দিয়ে থেঁতলে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার বসতবাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং নিহত স্কুলছাত্রী ও অভিযুক্ত সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ তদন্ত চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি শিশুকে প্রাণ দেয়নি, বরং স্থানীয় জনমনে নিরাপত্তার চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। স্কুল চলাকালীন সময়ে একজন পরিচিত বিক্রেতার মাধ্যমে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও অপরিচিতদের সাথে শিশুদের মেলামেশার বিষয়টিকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং অভিযুক্তের মৃত্যুতে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুলকেন্দ্রিক নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত কি না তা উদঘাটন করা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সামাজিক অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।












