সাম্প্রতিক
রাজিবপুরে ইউপি সদস্য পদে সবার দোয়া ও সমর্থন চাইলেন জহুরা খাতুন কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্টিত মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা ঝুঁকিতে রোগী-স্বজন, দ্রুত সংস্কারের দাবি কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ট ওসি মনোনীত জিয়া হায়দারেে প্রচেষ্টায় হতে যাচ্ছে নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” রাজবাড়ী সদরের ৫ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ, প্রস্তাবিত নাম ‘পঞ্চকানন’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপনে পিরোজপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগে দৃষ্টি ফিরে পেলেন দুই বৃদ্ধ বাবা-ছেলেসহ ৩১ জন টাংগাইলের নাগরপুরে শিক্ষার মান উন্নয়নে মত বিনিময় সভা তাড়াশে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা, পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে দিলেন স্বামী

মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা ঝুঁকিতে রোগী-স্বজন, দ্রুত সংস্কারের দাবি

 

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিয়মিত খসে পড়ছে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্টের অংশ। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের এ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা চললেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর, সিঁড়ির মুখ এবং রোগীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ছাদে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ে ইটের সুরকি বেরিয়ে এসেছে। কোথাও কোথাও সিমেন্টের আস্তরণ ঝুলে রয়েছে। যেকোনো সময় এসব অংশ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন সেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়ই শয্যা সংকট দেখা দেয়। অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে মেঝেতে থেকেও চিকিৎসা নিতে হয়। এমন অবস্থায় হাসপাতালের ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মতলব উত্তর উপজেলার মধ্য ইসলামাবাদ গ্রামের স্বপ্না বেগম বলেন, “আমি পাঁচ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। পুরো সময় ছাদের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়েছে। সিঁড়ির মুখে প্রায়ই বড় বড় সুরকির টুকরা খসে পড়ে। কখন কী হয় সেই ভয় নিয়েই থাকতে হয়েছে। চিকিৎসা নিতে এসে যদি ভবনের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক।”
মতলব পৌরসভার বরদিয়া এলাকার রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, “মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। কিন্তু এখানে এসে উল্টো ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও নষ্ট বা অচল রয়েছে। ফলে অনেক রোগীকেই অতিরিক্ত খরচ করে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।”
টুরকি গ্রামের এক রোগীর স্বজন রাবেয়া আক্তার বলেন, “চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময়ও ছাদের দিকে নজর রাখতে হয়। কখন পলেস্তারা খসে পড়ে সেই ভয় সবসময় কাজ করে।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব কিশোর বণিক বলেন, “ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্টের অংশ খসে পড়ছে। জনসাধারণকে সতর্ক করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কীকরণ নোটিশ টাঙানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, “হাসপাতাল ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, জনবল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও সংকট রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।”
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশাম বলেন, “হাসপাতাল ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি আমার জানা আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ না নেওয়ায় রোগীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের কারিগরি পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এদিকে সচেতন মহলের মতে, হাসপাতাল ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :