সাম্প্রতিক
আইনজীবীদের হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৭ জন আহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাবুগঞ্জে রমরমা মাদক ব্যবসা: হুমকির মুখে তরুণ সমাজ, জিরো টলারেন্স নীতির দাবিতে সচেতন মহল বিএনপি শুধু ছাত্রদল-যুবদলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক হামলা বন্ধের পর জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ২.২ শতাংশ রাজিবপুরে ইউপি সদস্য পদে সবার দোয়া ও সমর্থন চাইলেন জহুরা খাতুন কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্টিত মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা ঝুঁকিতে রোগী-স্বজন, দ্রুত সংস্কারের দাবি কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ট ওসি মনোনীত জিয়া হায়দারেে প্রচেষ্টায় হতে যাচ্ছে নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী”

কুষ্টিয়ার মিরপুরে মন্দির সংস্কারের সরকারি অনুদানের টাকা নয়-ছয়, কমিটি’র সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

১৯ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় গত শনিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অর্জুন কর্মকার। অভিযোগ উঠেছে, অনুদানের অর্থ থেকে নির্দিষ্ট শতাংশ কেটে নেওয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের কাজ করে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে মিরপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া বিশ্বাসপাড়া দুর্গা মন্দির এবং কুঠিপাড়া পূজা মন্দির সংস্কারের জন্য প্রতিটি মন্দিরে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এই অনুদান তুলতে গিয়ে মন্দির কমিটির সংশ্লিষ্টদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চুনিয়াপাড়া বিশ্বাসপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি নির্মল বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, “দুই কিস্তিতে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় কিস্তির চেক তোলার সময় অর্জুন কর্মকার আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেন। তিনি বলেন, এই টাকা উপজেলায় দিতে হবে।” তিনি আরও জানান, পরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের অর্থ নেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে অর্জুন কর্মকার ওই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কুঠিপাড়া পূজা মন্দিরের সভাপতি। তার দাবি, অনুদানের টাকা পেতে হলে নির্দিষ্ট অংশ দিতে হয়, নতুবা বরাদ্দ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তার ভাষায়, “অর্জুন কর্মকারের প্রভাবের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।”

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুশীল কুমার পাল জানান, অর্জুন কর্মকারের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মন্দির সংস্কারের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক ঘটনায় বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি কিছু টাকা ফেরত দেন। এছাড়া মিরপুর বিসর্জন ঘাটে নিম্নমানের নির্মাণ কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ঐক্য ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব খাটাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষ একপ্রকার জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এদিকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্ট সকল মহলের।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :