নাটোর সদর আসন থেকে চার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
প্রিয় নেতাকে মন্ত্রী হিসেবে না দেখায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ নাটোরের সাধারণ জনসাধারণের মাঝে এখন তীব্র হতাশা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নাটোরে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন দুলু।
তিনি ১৯৯৬, ২০০১ এবং সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্বাচনেও বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নাটোরবাসীর আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান এবং নাটোরে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেন।
এরপর ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকেই তিনি ধারাবাহিক রাজনৈতিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়ে আসছেন।
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাঁর ওপর নিপীড়নের মাত্রা আরও বেড়ে যায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়।
বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক কারণে দুলুকে প্রায় ৫ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে।
দুঃশাসনের ১৭ বছরে নাটোরে ১৫১ জন নেতাকর্মী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন ৫ জন।
বিপর্যয়ের সেই সময়ে নাটোর জেলা বিএনপির কাণ্ডারী হিসেবে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে নিরলসভাবে দাঁড়িয়েছেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটলে নাটোরের মানুষের মনে দুলুকে নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নাটোরের ৪টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন এবং দেশে বিএনপি সরকার গঠিত হয়।
সারা দেশে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও সেই মন্ত্রিসভায় দুলুর স্থান না হওয়ায় নাটোরবাসী ব্যথিত।
নলডাঙ্গার কৃষক আরিফুল ইসলাম জানান, দুলু ভাই আগে উপমন্ত্রী হয়ে দুর্গম হালতি বিলে পাকা রাস্তা করে দিয়েছিলেন, এবার তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম।
গৃহিণী আছমা খাতুন বলেন, দুলু ভাই জনতার যোগ্য নেতা, তাঁকে মন্ত্রী করা হলে নিঃসন্দেহে নাটোরের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হতো।
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের মতে, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও নাটোরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি, অভিজ্ঞ দুলু ভাইকে মন্ত্রী করলে নাটোর আধুনিক শহরে রূপ নিত।
বিএনপি কর্মী মিলন মনে করেন, নাটোরের ৪টি আসনেই জয়ের পেছনে দুলু ভাইয়ের সাংগঠনিক পরিশ্রম রয়েছে, তাঁকে মূল্যায়ন করলে দলের ভিত আরও শক্ত হতো।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, “বিগত ২০ বছর এমপি-মন্ত্রী না থাকলেও আমি সবসময় জনগণের মাঝেই ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে ভালোবাসার স্বীকৃতি দিয়েছেন, আমি দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করব ইনশাআল্লাহ।”
দুলু যোগ করেন, “আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন আর তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা, মহান আল্লাহ সেই চাওয়া পূরণ করেছেন।












