একসময়ের ভয়ের জনপদ বেনাপোলের পেঁচের বাওড় এলাকা এখন সময়ের পরিক্রমায় জনমুখর হয়ে উঠেছে। বেনাপোল বাজার থেকে গ্রামের সড়কটি পেঁচের বাওড় হয়ে নারায়ণপুর ও রঘুনাথপুর গ্রামে গিয়ে মিশেছে। কাঁচা সড়ক পাকা হওয়ায় এবং বাওড় এলাকায় মানুষের যাতায়াত ও আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এর মাঝেই জীবিকার তাগিদে লড়াই করে চলা এক ভূমিহীন নারী শীউলী খাতুনের জীবন থমকে গেছে উচ্ছেদের হুমকিতে।
পেঁচের বাওড়ের পাশেই গড়ে উঠেছে কসাইখানা (পিলখানা) এবং তার সাথেই একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করছেন শীউলী খাতুন নামের এক সংগ্রামী নারী। এলাকার রাস্তাঘাট পাকা হওয়া এবং বিকাল থেকে রাত ১১-১২টা পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা থাকায় তার চায়ের দোকানটি চলে। দোকানের ভেতরেই রান্নাবান্না, খাওয়া দাওয়া এমনকি পরিবারের অতিথিদের আপ্যায়নও চলে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি রাতেও ওই দোকানেই অবস্থান করেন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, ওই পিলখানায় ভালো-মন্দের বাছবিচার ছাড়াই গরু জবাই করা হয়। এমনকি পেটে বাচ্চা আছে এমন গাভী জবাই এবং জবাই শেষে সেই বাছুরসহ আটকের ঘটনাও ঘটিয়েছে বেনাপোল পৌরসভা। এছাড়া মরা ও রুগ্ন গরু জবাই করে বাজারে মাংস বিক্রির গুঞ্জনও রয়েছে।
স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল এই গুঞ্জনের পেছনে শীউলীকে সন্দেহ করছে এই সংবাদগুলো তিনিই মানুষের কাছে পৌঁছান। অপরদিকে গরুর জবাইয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এবং পৌরসভার কসাইদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণকারী একটি মহল শীউলীকে তার ১০ বছরের দোকান থেকে উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শীউলী খাতুন ােভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানকার কিছু লোক আমার নিকট থেকে বাকিতে সিগারেট ও চা খায়। সেই টাকা চাইলে তারা আমাকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। এরপর আমাকে জড়িয়ে নানা অপরাধমূলক ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে প্রশাসনকে অবহিত করে। প্রশাসন সেই মিথ্যা ও ভুয়া গল্প আমলে নিয়ে আমাকে উচ্ছেদের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এই মুহূর্তে আমাকে উঠিয়ে দিলে আমার থাকার কোনো জায়গা নেই, এরপর আমার দোকানের বাকিও আর উঠবে না। আমি নিঃস্ব হয়ে দ্বারে দ্বারে ভিা করা ছাড়া কোনো গতি দেখছি না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সরকারের দেশে অনেক খাস জমি রয়েছে, সেই সরকারি খাস জমির একটি জায়গায় অন্তত একজন ভূমিহীন মানুষ হিসেবে থাকার জন্য একটি ব্যবস্থা করে দিন।”
এ বিষয়ে বেনাপোল পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, বেনাপোল পৌরসভায় যিনি স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন, তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই পৌরসভায় চাকরি করে আসছেন। সেই সুবাদে এলাকার মানুষের সাথে তার একটি সখ্যতা গড়ে উঠেছে। অনেক েেত্র চক্ষু লজ্জায় তাকে অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে হয়।
অন্যদিকে বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইছহাক মিয়া বলেন, কসাইখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মুদির দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় যে অনিয়ম হয়, সে বিষয়ে বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোনো ব্যবস্থাই নেন না। যদি কোনো ভ্রাম্যমাণ টিম আসে, তার আগে তিনি স্থানীয় বাজারের অনিয়ম দোকানদারদের সতর্ক করে দেন।



