সাম্প্রতিক
বগুড়ায় হবে বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল মোহনগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা। রাকিব সভাপতি, অপু সাধারণ সম্পাদক পটুয়াখালীর গলাচিপায় ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার খাবারের প্রলোভনে সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত কিশোর সংশোধনাগারে দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৪ ভেকু জব্দ ও ৬টি নিষ্ক্রিয় সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের কাছে বিপুল অস্ত্রসহ ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ সখিপুরে একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক নারী গ্রেফতার জুলাই পদযাত্রায় মুন্সীগঞ্জের নিমতলায় এনসিপির পথসভা ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাজী সাইমুম বানারীপাড়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

বানারীপাড়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার আহমদাবাদ হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আ. হালিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সনদ নিয়ে প্রশ্ন, অর্থ আত্মসাৎ ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তনয় সিংকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ মে ২০২৬ মাদ্রাসার গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য মো. আ. রহিম ফরাজী মাদ্রাসার সভাপতি বরাবর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ মো. আ. হালিম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। বেসরকারি শিক্ষকদের নৈমিত্তিক ছুটির বিধান উপেক্ষা করে তিনি ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১৬ দিন ছুটি ভোগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির সদস্যরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি বিষয়টিকে নিজের ‘ব্যক্তিগত ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যান বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল ছুটি গ্রহণ না করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে অধ্যক্ষের শিক্ষাগত সনদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তার দাখিল, আলিম ও ফাজিলের সনদের একাধিক স্থানে ঘষামাজা ও কাটাকাটির চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সনদগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, বিভিন্ন সময়ে অডিট কমিটির নিরীক্ষায় মাদ্রাসার অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে প্রভাব খাটিয়ে এসব অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার এক নিরাপত্তারক্ষীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগসংক্রান্ত ফাইল পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দিতে বাধ্য করা হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই ফাইল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তারক্ষী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও মাদ্রাসার গাছ ও পুরোনো আসবাবপত্র নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রিসহ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অতীতের আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা লিখিত অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. আ. রহিম ফরাজী বলেন, অধ্যক্ষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও আচরণে স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর নেতিবাচক প্রভাব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির ওপরও পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মো. আ. হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তনয় সিংকে তদন্তকারী কর্মকর্তা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
মাদ্রাসার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা উদ্‌ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :