পর্যটন নগরী কক্সবাজার বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী অবস্থান হিসেবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। একদিকে পর্যটন অপরদিকে মাদক বছরজুড়ে আলোচনায় থাকে দেশের সর্বদক্ষিণ জেলা কক্সবাজার। পর্যটন রাজধানীর পাশাপাশি মাদক-চোরাচালানের হাট হিসেবেও বেশ পরিচিত। তবে কক্সবাজার শহর ও সদর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চুরি-ছিনতাই, মাদক কারবার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান জোরদার করে খুব অল্পসময়ে আইনশৃংখলা রক্ষায় অনন্য নজির স্থাপন করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে,গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মাত্র ৫৯ দিনে বিভিন্ন অপরাধে মোট ১ হাজার ৫৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে পৃথক অভিযানে ১৯৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ২০২৬ সালের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে যা পর্যটন শহরের অপরাধ দমনে সত্যি প্রশংসনীয়। তাঁর দায়িত্বকালেই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পরিচালিত অভিযানে বিপুলসংখ্যক আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৯ দিনে গ্রেপ্তার হওয়া ১ হাজার ৫৯ জনের মধ্যে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ৮৬ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৩৪০ জন মাদকসেবী রয়েছেন।
এ ছাড়া দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় ৫২ জন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের মাধ্যমে ১৮৪ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৩৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব শ্রেণিতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১ হাজার ৫৯ জনে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১৯৬ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটকের বিষয়টি মূল গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানের বাইরে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ৫৮০ জন আসামি গ্রেপ্তার এবং ৫৮ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রাখে পুলিশ।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর দায়িত্বকালে পরিচালিত এসব অভিযানে চোর-ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি, মাদকসেবী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পর্যটননগরী কক্সবাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে চুরি, ছিনতাই, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে শুধু গ্রেপ্তার ও আটকের সংখ্যা নয়, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ, মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের চিহ্নিত করাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনের বিলাসবহুল ফ্লাট থেকে ৩লাখ ইয়াবাসহ ভিআইপি মাদক কারবারি আটকের বিষয়টি কক্সবাজারে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র,ছিনতাইয়ের সরঞ্জামসহ মাদকবহনের বিভিন্ন বাহনও আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান,অপরাধী যে-ই হোক সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কিছুতেই মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাংদের ছাড় দেয়া হবেনা। তাঁহার উর্ধ্বতন কর্মকতাদের নির্দেশে পর্যটন শহরের মাদক নির্মুল ও অপরাধ দমনে চলমান বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।




