ফিড, ঔষধ ও বিদ্যুতের দাম আকাশছোঁয়া: কুড়িগ্রামে খামারিদের মাথায় হাত

 


(মুরগির খাদ্য), ঔষুধ এবং বিদ্যুতের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে কুড়িগ্রাম জেলার পোল্ট্রি
খামারিরা পরেছেন চরম বিপাকে। উৎপাদন খরচ হু-হু করে বাড়লেও বাজারে ডিমের দাম না বাড়ায়
লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। ফলে এই খাতের সাথে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা এখন গভীর
অনিশ্চয়তার মুখে।

জেলা
প্রাণিসম্পদের তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম জেলায় ২৭৫টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে
দিনে প্রায় ২ লাখ ডিম উৎপাদন ও বেচাকেনা হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব ডিম দেশের বিভিন্ন
প্রান্তে চলে যায়। ডিম একটি লাভজনক ব্যবসা হলেও বর্তমানে খামারীরা রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠা
আর অনিশ্চয়তায়। খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির
ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের
বোঝা। ফলে পোলট্রি ব্যবসার সাথে যুক্ত হাজারো মানুষ রয়েছেন কাজ হারানোর আশংকায়।

জেলার
ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের খেজুরের তল এলাকায় অবস্থিত মুন্সি পোলট্রি ফার্মের
ম্যানেজার আব্দুর রহিম জানান, আমাদের খামারে সাড়ে ৫হাজার মুরগী আছে। ফিড, ঔষধ, বিদ্যুৎবিল
ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন সব খরচ মিটিয়ে খামারীদের একটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ
লাগে সাড়ে ৮ থেকে ৯টাকা। বাজারে কখনো সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে শুধুমাত্র ৯ টাকা থেকে
সাড়ে সাড়ে ৯ টাকায়। ফলে বেশিরভাগ সময় লোকসানে পরছেন ব্যবসায়ীরা।

খামারের
কর্মচারী একরামুল হক জানান, প্রতিদিন ডিমের বাজার ওঠানামা করে। অনেক সময় ডিমের চাহিদা
কমে যায়, তখন মহাজনের সাথে বিপাকে পরে এই কাজের সাথে সংসার চালানো হাজারো পরিবার। তারা
জানান, মহাজন লাভ করতে না পারলে আমরা শ্রমকিরা কিভাবে বাঁচবো।

এই
খামারের আরেক কর্মচারী মিলন চন্দ্র জানান, অনেক পরিশ্রম আর নিয়মের মধ্যে আমাদের কাজ
করতে হয়। ভোর ৫টায় খামারে এসে খাদ্য ও পানি দেয়ার পর খামারের মেঝে পরিষ্কার করি। এরপর
সাড়ে ১১টার দিকে ডিম উত্তোলন করা হয়। দ্বিতীয়বার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবারও ডিম সংগ্রহ
করে স্টোরে রাখা হয়। এরপর ভ্যান আসলে ডিম ভ্যানে নিরাপদভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। এত পরিশ্রম
সার্থক হয় ডিমের দাম বাড়লে। দাম কমা মানে লস করা। আর লস করলে আমাদের চাকুরীতে টানাটানি
পরে যায়। তখন তিনজনের জায়গায় দুজন কর্মচারী দিয়ে কাজ করা হয়। ফলে আমরাও আতঙ্কে থাকি।

কুড়িগ্রাম।
জেলা পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী রিটু জানান, অনেক উদ্যোক্তা খামারি পোলট্রি
ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামারিদের বাঁচাতে হলে সরকারকে ফিডের ও ঔষধের দাম নিয়ন্ত্রনে
আনতে হবে। এছাড়াও বাণিজ্যিক বিলের পরিবর্তে কৃষি রেটে খামারিদের বিল নির্ধারণের ব্যবস্থা
করতে হবে। নাহলে খামারিদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে পথে বসবে তারা।

বিষয়টি
নিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জিনিষপত্রের উর্ধ্বমূখীর কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার ফিডের কাচামাল আমদানিতে
শুল্ক হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকীর কথা চিন্তা করছেন। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে খামারিরা
উপকৃত হবেন।

সংশ্লিষ্টদের
মতে, দ্রুত সরকারি প্রণোদনা বা বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে কুড়িগ্রামের সম্ভাবনাময়
এই পোল্ট্রি শিল্প পরবে চরম আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।#

 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top