কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বাবা কর্তৃক শিশু কণ্যা(৮) ধর্ষনের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুরসহ ধর্ষককে অবরুদ্ধ করে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটে।
 
হামলা চলাকালে বাধা দেওয়াতে বাড়ির মালিক আব্দুর রশিদের ছেলে সাকিব হোসেন(১৬) নামে এক কিশোরসহ ৫ জন আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। 

সংবাদ পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে দেবিদ্বার থানার একদল পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় ধর্ষককে উদ্ধার করে দেবিদ্বার থানায় নিয়ে আসা হয়।

 ঘটনাটি ঘটে গতকাল শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টায়। ধর্ষনের ঘটনাটি হয় শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান রাত ১২টা সময় উপজেলার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের হেলাল কাজী বাড়ির আব্দুর রশিদের ভাড়াটিয়ার ঘরে। ধর্ষণে অভিযুক্ত মোঃ জামাল হোসেন(৫০) দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর চশুই পালপাড়ার বাচ্চু মিয়ার পুত্র।

স্থানীয়রা মর্নিং পোস্ট প্রতিনিধিকে জানায়, মো. জামাল হোসেন (৫০) নামে একজন অটোচালক তার দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তার(২৮) ও সৎ কণ্যা (৮) কে নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলার বারেরায় ভাড়া বাড়িতে প্রায় এক মাস ধরে থাকতেন। 

ধর্ষিত  শিশুটি কুমিল্লা শহরের দারুল হাকিমিয়া আলিম মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। 

শুক্রবার দিবাগত রাতে ১২টার সময় সৎ পিতা মো. জামাল হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এবং তার বিভিন্ন স্পর্শয়ী স্থানগুলোতে কামরালে শিশুটি ব্যাথায় চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে এ ঘটনা দেখে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং ঘটনা শুনেন। 

প্রথমে বিষয়টি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে অর্থের বিনিময়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে আজ শনিবার বিকেল ৫টায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও তাকে মারধর করে । এসময় বাড়ির মালিকের ছেলে সাকিবসহ কিছুলোক বাঁধা দিতে এসে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত: ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাকিব হোসেনকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত জামাল হোসেন জানান, সে ২০১৯ সালে তার প্রথম স্ত্রী রেহানা আক্তারকে নিয়ে দেবিদ্বার বানিয়াপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় এক বছর পূর্বে রেহানা বেগমকে তালাক দিয়ে জেসমিনকে বিবাহ করেন। পূর্বের সংসারে এক পুত্র ও এক কণ্যা সন্তান রয়েছে। ওদের বিয়ে হয়ে গেছে। সৎ কণ্যাকে শ্লীলতাহানীর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিরব ছিলেন। 

তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, পরে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনেন। এর আগেও একাধিকবার মেয়েকে ধর্ষণ করলেও তার মা বিষয়টি জানতেন বলে শিশুটি প্রশাসনকে জানান।
 
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, সংবাদ পেয়ে বিকেলে অভিযুক্ত জামালকে উদ্ধার করে আনতে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠাই। জনতার রোষানলে তাকে উদ্ধার করে আনতে ব্যর্থ হলে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় আরো পুলিশ ও সেনা সদস্যের একটি দল নিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।