গত শুক্রবার রাতে (২৯ আগস্ট) ওই সাতজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে রোববার (৩১ আগস্ট) স্বামীকে কারাগারে পাঠিয়ে বাকি ছয়জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন ওই নববধূর স্বজনরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের ওসমানের পাড়া গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বর আসিফ মিয়া কামালেরপাড়া ইউনিয়নের ওসমানেরপাড়া গ্রামের আশাদুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা দেনমোহরে আসিফ মিয়ার সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ওই কিশোরীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর আসিফ মিয়া নববধূকে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। পরদিন ২৮ আগস্ট রাতে বাসর রাতে এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ওই নববধূকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সাঘাটা থানায় অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে ওসমানেরপাড়ার ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘বুধবার শেষ রাতে বিয়ে ও বিদায় হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই মেয়ে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ওই মেয়ে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।’
মামলার বাদী ভুক্তভোগীর ভাই জানান, তাদের না জানিয়ে সব আসামিকে ছেড়ে দেয়ায় তারা হতাশ। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন তিনি।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফাহাদ আল আসাদ জানান, শুক্রবার দুপুরে এক নববধূকে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার পরিবার। তার শরীরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহ কুমার কুণ্ড।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী আসিফ মিয়াসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছিল। আপাতত স্বামী ছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী হলে তাদের আবার গ্রেফতার করা হবে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’